আইআরআই জরিপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ০৮:৩১ এএম
সংগৃহীত ফটো
বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিলেও বিরোধীরা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এখন শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনাকে সমর্থন করেন। তবে বিরোধীদের সমর্থন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ (সিআইএসআর) বাংলাদেশে একটি নতুন দেশব্যাপী জরিপ ও ফোকাস গ্রুপ স্টাডি করেছে। সেই জরিপ ও ফোকাস গ্রুপ স্টাডির ফলাফল বলছে, দেশের গতিপথ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা গেছে।
জরিপ আরও বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার তাদের জনসমর্থন ধরে রাখলেও বিরোধী দলের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে এবং বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ভেস্তে যাচ্ছে।
২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে দেশ এখন ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ বলেছে, দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৭৬ শতাংশ। আর মানুষের মধ্যে এই হতাশার প্রাথমিক কারণ হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি।
এ ব্যাপারে ফোকাস গ্রুপ স্টাডিতে অংশ নেওয়া একজন বলেন, ‘আমার স্বামীর বেতন বাড়েনি, কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।’
জরিপে দেখা যায়, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা উন্নত হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী। জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যারা ভোট দিতে চান না তারা নির্বাচনে জালিয়াতি এবং ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে ৪৪ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সমর্থন করে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠরা বিশ্বাস করে যে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই বিরোধীদের নির্বাচনে আসা উচিত।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক স্টিভ সিমা বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য জনসমর্থন দেখা উৎসাহজনক।
২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।