প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ২৩:৫৪ পিএম
সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি মেয়র ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রবা ফটো
রাজশাহীকে স্মার্ট মহানগর করতে ‘স্মার্ট রাজশাহী সিটি’ বিষয়ক আলোচনা সভা ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই হয়।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এটুআইয়ের যুগ্ম-প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. সাইফুল ইসলাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দিন চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি সইয়ের আগে রাজশাহী সিটির রূপান্তর নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়। এটুআই ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এ সময় ‘অটোমেশন অন সিটিজেন সার্ভিস’ বিষয়ক আলোচনা করেন এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সানি মো. আশরাফ খান, ‘স্মার্ট কর্মসংস্থান’ বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এটুআইয়ের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইনোভেশন স্পেশালিস্ট এইচ এম আসাদ-উজ-জামান ও ‘স্মার্ট রাজশাহী সিটি’ বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এটুআইয়ের চিফ ই-গভর্ন্যান্স স্পেশালিষ্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ।
মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘স্মার্ট রাজশাহী গড়ার জন্য আমরাও আগ্রহী। কোভিড-১৯ এর কারণে এর কাজটি ব্যাহত হয়েছে। এবার আমরা সেটি করতে যাচ্ছি। নাগরিকরা অনলাইনে ঘরে বসে সিটি করপোরেশনের অনেক সেবা নিতে পারবে। রাজশাহীকে দেশের মধ্যে প্রথম স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
মেয়র বলেন, রাজশাহী ও আশপাশের জেলা পিছিয়ে পড়া একটি জনপদ। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাব। তবে ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কারণ কোথায় কী লাগবে সবদিকে তিনি দৃষ্টি রাখেন। রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক গড়ে দিয়েছেন। এখানে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, অনেক ফ্রিল্যান্সার তৈরি হচ্ছে, আগামীতেও হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্নক্ষেত্রে রাজশাহী সিটির অনেক অর্জন রয়েছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরপর তিনবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ইপিআই কার্যক্রমে টানা ১১বার দেশসেরা, দুইবার পরিবেশ পদক অর্জন করেছি। এই অর্জন ধরে রেখে রাজশাহীকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমাদের টার্গেট স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। স্মাট বাংলাদেশ বির্নিমাণে প্রধানমন্ত্রী যে টার্গেট দিয়েছেন, স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা ও স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমরা দুইটি নগরীকে স্মার্ট নগরী হিসেবে প্রথম পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাই। তার মধ্যে প্রথম ও প্রধান রাজশাহী সিটিকে।
তিনি বলেন, স্মার্ট নগরীটা কেমন হতে পারে, সেটি রাজশাহী দেখে মানুষ জানতে পারবে। রাজশাহী শিক্ষানগরী, এখন ধীরে ধীরে সিলিকন নগরীতে পরিণত হচ্ছে, এখানে স্মার্ট কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে কাজ করা হবে। আগামীতে রাজশাহী স্মার্ট সিটি হিসেবে সারাবিশ্বে একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী, চিফ ই-গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও এটুআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে স্মার্ট বাংলাদেশের ওপর একটি অ্যানিমেশন ভিডিও উপস্থাপন করা হয়।