প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ২০:১০ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ২০:৫১ পিএম
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অতিথিরা। প্রবা ফটো
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে এখন বড় লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে বলে মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।
তিনি বলেন, ‘লড়াই করতে হবে। তবে তাতেও কিছু হবে কিনা বলা যায় না। যেকোনো কিছু পরিবর্তনের জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, সেটা ছাড়া কিছু হয় না। তরুণদের সে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। এখানে নীতি-আদর্শের জায়গায় ভিন্নতা থাকলে সেই আন্দোলন সফল হতে পারে না।’
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) আন্তার্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আদিবাসীদের ভূমি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবশক্তির ভূমিকা ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ‘আদিবাসী যুবকদের বুঝতে হবে, জানতে হবে দেশের সমাজব্যবস্থাটা কী। একটি নীতি ও আদর্শের নিচে সবাইকে আসতে হবে। শোষণ, নিপীড়ন কার জন্য হচ্ছে, কেন হচ্ছে—তা আগে জানতে হবে। তবেই তো লড়াই করতে পারব। আত্মপক্ষ ও প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করতে হবে। স্বজাতির অনেকেই আছে যারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের জাতিকে শোষণ, নিপীড়ন করছে। এক হয়ে লড়াই করতে হলে একই আদর্শের হতে হবে। সেখান থেকে আদিবাসী সমাজ এখনও সংগ্রামকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারেনি। নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায় করতে পারেনি।‘
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবির, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, উন্নয়নকর্মী ফাল্গুনী ত্রিপুরা, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাংগঠনিক সম্পাদক টনি চিরান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ‘আমরা আগে অনেক আন্দোলন করেছি। মানবেন্দ্র লারমা শুধু আদিবাসীদের জন্য নয়, বৈষম্যমুক্ত সমাজের জন্য জীবন দিয়েছেন। কিছু আদিবাসী আছে যারা শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, তারা কিছুটা ভাত পাবে। এ দেশে বহুজাতি বাস করে, সেটাকে অস্বীকার করা হয়।‘
মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বললেই রাষ্ট্র ভয় পায়, ভাবে স্বাধীনতা চাইছে। মানুষ জন্মগতই স্বাধীন। এ অধিকার চাওয়া মানে স্বাধীনতা চাওয়া নয়, সেটা আমাদের দুর্বল মস্তিষ্কের আমলাদের মাথায় ঢুকবে কীভাবে। এখনও মান্ধাতা আমলের ধারণায় আছে রাষ্ট্র, সবাইকে এক বানাতে হবে। আমলাতান্ত্রিকতার কর্তৃত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।’
সম্প্রতি করা এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’১৮ থেকে ৩৫ বছরের যুবকদের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। সারা দেশের আটটি বিভাগের ২৩ জেলায় ৬ হাজার ২৭৩ জনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, ৯ শতাংশ তরুণ বলেছে, জীবন বাঁচাতে অন্য স্বজাতি বা ধর্মের মানুষের রক্ত তারা নেবে না। এই তরুণরাই অসাম্প্রদায়িক বাংলা গড়েছে। তারাই আবার অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলবে।’
সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার শুনলে সরকার ভীত হয়। আমি আশাবাদী, তরুণরা মন খারাপ করো না। দেশের সব জাতির মানুষ একসঙ্গে বাস করতে চায়। একটা নতুন সূর্যের উদয় নিশ্চয়ই হবে।’
সারা মারান্ডি বলেন, ‘আদিবাসী ছেলেমেয়েদের তো আগে বাঁচতে হবে। তাদের থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই। এখনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়িতে গিয়ে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কখন আপনার বেশি ভালো লাগে? বলবে, সন্তানের মুখে ভাত দিতে পারলে। তাদের অন্নই নেই, পড়াশোনাটা তো আরও দূরের বিষয়।’