প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৩১ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২৩ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
বঙ্গমাতা সবসময় পাশে থাকার কারণে জাতির পিতার সাফল্য লাভ সহজ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘‘শুধু ছাত্র জীবন নয়, রাজনৈতিক জীবনেও ‘মা’ সবসময় বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন।’’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গমাতা শুধু নিজের সংসারই চালাতেন না, হাতে যা টাকা-পয়সা আসতো তাও বাবার রাজনীতির জন্য তাকে দিয়ে দিতেন। জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আব্বা-আম্মা ছাড়াও সবসময় রেণু (বঙ্গমাতা) আমাকে কিছু টাকা পয়সা দিয়েছে। রেণু যা কিছু জোগাড় করতো বাড়ি গেলে এবং দরকার হলেই আমাকে দিত, কোনোদিন আপত্তি করেনি। নিজে মোটেই খরচ করত না, গ্রামের বাড়িতে থাকত। আমার জন্য সব রাখত।’
এই ভাবে তিনি আমার বাবার পাশে থেকে তাকে সব রকমের সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাবা যখন বিএ পরীক্ষা দেন কলকাতায় তখন দাঙ্গা হচ্ছিল। বাবা দাঙ্গা দমনে ঝাঁপিয়ে পড়েন কিন্তু সে সময় মা চলে আসেন বাবার লেখাপড়ার সহযোগিতা করার জন্য।
সে সময়ে অনেক আত্মীয় কলকাতায় থাকতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মার ধারণা হয়েছিল, তিনি যদি বাবার পাশে থাকেন বাবা লেখাপড়া করবেন এবং পাস করবেন, যা করেছিলেনও তিনি। এটাও জাতির পিতা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। বাবা টানা দুই বছর কখনও জেলের বাইরে না থাকলেও মা সব সময় ঘর-সংসার সামাল দিতেন এবং কখনও হতাশ হননি।’
সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গমাতা জাতির পিতাকে বলতেন, ‘রাজনীতি করও আমার আপত্তি নেই, কিন্তু পড়াশোনা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার দাদাও বলেছিলেন ‘যে কাজই করো তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে।’’
প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানসহ জাতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে বঙ্গমাতার ঐতিহাসিক সময়োচিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা লাভের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তার ভাষণে তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা এদিন অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ চার বিশিষ্ট নারী ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের মধ্যে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২৩’ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম চেমন আরা তৈয়ব।
শুরুতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আর্থিক অনুদান ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। সারা দেশের ৪ হাজার ৫০০ দুস্থ মহিলার মধ্যে সেলাই মেশিন এবং ৩ হাজার দুঃস্থ মহিলার প্রত্যেককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়। সূত্র: বাসস