জাতীয় সংসদ নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ২১:১৮ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ২১:৩৫ পিএম
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। প্রবা ফটো
ভোট ব্যালট পেপারেই হবে, তবে কেউ যাতে সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কিছু কৌশল ভেবে রেখেছে তারা। এর অন্যতম হচ্ছে, আগের মতো রাতে না পাঠিয়ে নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পাঠানোর চিন্তা। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রবিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।
তিনি বলেন, ’ব্যালটের নির্বাচনে যেন অপব্যবহার না হয়, সেজন্য আমাদের কিছু কৌশল আছে। সেই কৌশলগুলো আমরা প্রয়োগ করার চেষ্টা করব। যদি যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে খুব বাজে অবস্থা না হয়, তাহলে নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পাঠানো হবে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটাই করছি। যদি কোনো কেন্দ্রের অবস্থা খুব খারাপ হয়, সে পরিস্থিতিতে আমরা ব্যালট আগে দিয়ে থাকি। যেখানে যোগাযোগ ভালো, ভোর ৪টায় পাঠালে পৌঁছানো সম্ভব—সেখানে ভোটের দিনই ব্যালট পাঠাই। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমরা এ ধরনের চিন্তাভাবনা করতে পারি। সকালে যেগুলোতে পাঠানো সম্ভব, সেগুলোকে আইডেন্টিফাই করা হবে। যেখানে সকালে পাঠানো সম্ভব না, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পাঠাব। যেন পথে কোনো ধরনের মিসইউজ না হয়।’
জাতীয় নির্বাচনের সময় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে কি না, এ বিষয়ে কমিশনে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি বলে জানান মো. আলমগীর।
তিনি বলেন, ’ফর্মাল আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে এখনও কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তবে একসঙ্গে যখন ৩০০ আসনে নির্বাচন হয়, তখন কেন্দ্র থাকে চার লাখ। সেখানে বেশ কিছু কেন্দ্র থাকে ঝুঁকিপূর্ণ। এতগুলো কেন্দ্রে ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব। সেক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করে সেগুলোতে ফোর্স বাড়ানোর চিন্তা করছি।’
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন জানিয়ে ইসি আলমগীর বলেন, ’একটা নির্বাচন যখন অংশগ্রহণমূলক হবে, সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দল থাকবে, তখন এমনিতেই একটা ভারসাম্য থাকে। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো অনেক ভূমিকা রাখে। কারণ তারা জানে নির্বাচন বাতিল হলে তাদেরই ক্ষতি বেশি।’
সিসি ক্যামেরার বিষয়ে একই তথ্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানাও। এদিন নিজ দপ্তরে তিনি বলেন, ’দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে না। তা ছাড়া সিসি ক্যামেরা ব্যবহারে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই।’
নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার বিষয়ে কমিশনের কোনো বাধা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ’বিদেশ থেকে যতসংখ্যক পর্যবেক্ষক আসতে চায় আসতে পারবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো লিমিটেশন করা নেই। তারা আবেদন করলে আমরা নোটটা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। তারা সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখার পর ক্লিয়ারেন্স দেয়। আমাদের দিক থেকে কোনো বাধা নেই।’