প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৫৮ পিএম
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন। প্রবা ফটো
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমনবিষয়ক সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউয়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
রবিবার (৬ আগস্ট) বিকালে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়।
বৈঠক শেষে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ’দুদকের আগমন ও তাদের সঙ্গে বৈঠক নির্বাচনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ জাতীয় কোনো আলোচনাও হয়নি। এমনকি কোনো দলীয় বিষয়ের সম্পৃক্ততাও নেই। তারা মূলত দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।’
প্রতিনিধিদলটি দুর্নীতি দমনে কোনো দিকনির্দেশনা দিয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রথমত উনারা কিন্ত বাংলাদেশে দুর্নীতির বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আসেননি। দ্বিতীয়ত দুর্নীতির বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করবে কি না, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়নি। তিনি বাংলাদেশকে টার্গেট করেও আসেননি। উনার দায়িত্ব পৃথিবীতে যে দেশসমূহ রয়েছে, সেখানে দুর্নীতির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে কাজ করা।’
দেশের বিপুল অর্থ পাচার হয়ে গেছে, সেগুলো ফিরে পাওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে দুদক সচিব বলেন, ‘এগুলো আলোচনার বিষয়ই ছিল না। আজকে প্রাথমিকভাবে দেখা করলেন এবং তারা একটা ধারণা নিলেন। পরবর্তীতে উনারা আগ্রহ প্রকাশ করলে তখন কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়, সেটা আলোচনা হতে পারে।’
দুদক সচিব বলেন, ’তারা মূলত এসেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে কাজ করে, তা দেখতে। এখানে আইন বিধি-বিধান সম্পর্কে তারা ধারণা নিয়েছেন। আপনারা জানেন, দুর্নীতি এখন আর একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি গ্লোবাল ইস্যু। বৈশ্বিকভাবে কীভাবে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, সে বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তার যে দায়িত্ব—পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি গিয়ে থাকেন—এরই ধারাবাহিকতায় এই সফর। এরপর তিনি ভারতে জি-২০-তে যাবেন।’
মার্কিন এই প্রতিনিধির কাছে অর্থ পাচারে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে দুদক সচিব বলেন, ‘এখানে দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কীভাবে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, এমএলএআর, অ্যাসেট রিকভারি আরও সহজ কী করে হতে পারে, পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে পাওয়া যেতে পারে, সেসব বিষয়ে কথা হয়েছে। বিষয়গুলো পরবর্তীতে আরও আলোচনা হতে পারে।’
এদিন এসআলম গ্রুপের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে রায় এসেছে। এ বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করবে কি না, জানতে চাইলে দুদক সচিব বলেন, ’মাননীয় আদালত থেকে যদি কোনো বিষয়ে নির্দেশনা আসে, সেটি অবশ্যই কমিশন থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিন দিনের এই সফরে দুর্নীতি দমন কমিশন ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন নিয়ে কাজ করে এমন সরকারি, বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের।
রিচার্ড নেফিউ ছাড়া প্রতিনিধিদলের অন্য দুই সদস্য হলেন—দর্নীতি দমন বিশ্লেষক ডিল্যান এইকেনস ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ম্যাক্স মার্টিন।
দুদক সচিব ছাড়াও কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন কমিশনের মহাপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, আক্তার হোসেন ও পরিচালক মোহাম্মদ বেনজীর আহম্মদ।