প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৭:০৫ পিএম
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পুরস্কার-২০২৩ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস
দেশের ক্রীড়বিদদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি যতক্ষণ আছি দিয়ে যাচ্ছি। যাদের ঘর নেই, তাদের ফ্ল্যাট তৈরি করে দেওয়া বা জমি দেওয়া হয়েছে। খেলাধূলার সরঞ্জাম প্রদান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসা করিয়ে বিদেশ থেকে আনা-সব করে যাচ্ছি।
শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পুরস্কার-২০২৩ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিরদিন তো আমি থাকব না। হয়তো এভাবে আর কেউ আন্তারিকতার সঙ্গে করবেও না। কাজেই তাদের (ক্রীড়াবিদ) ভবিষ্যৎ যাতে ভালো থাকে এবং ভবিষ্যতে তারা ভালো কিছু করে চলতে পারে সেজন্য বিত্তশালীদের আহবান করব আপনারা একটু উদ্যোগ নেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক গরিব পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের জন্য স্বর্ণ জয় করে আনছে। প্রতিবন্ধিরা স্পেশাল অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করছে। তারা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছে। তারা যেন এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে সেজন্য সরকারের সহযোগিতা রয়েছে।’
সরকারপ্রধান জানান, তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন এবং যখন ছিলেন না তখনও তিনি খেলোয়াড়দেরকে সহযোগিতা করে গেছেন। বিশেষকরে আবাহনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকাংশ খেলোযাড়কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন এবং সহযোগিতা করেছেন ও করে যাচ্ছেন।
দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে পৃষ্ঠপোষকতা করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটি বিকশিত হতে পারে না।’
বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে এখন ব্যাবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা অনেক কিছু করে দিয়েছি। বেসরকারি খাত অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তারাই (খেলোযাড়রা) তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম সব জায়গায় তুলে ধরতে পারবেন। সেক্ষেত্রেও আপনাদের (ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা) এই সহযোগিতাটুকু কিন্তু দরকার।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা যদি সেই এভারেস্ট বিজয় করতে পারে অথবা এত স্বল্প সুযোগের মধ্য দিয়েও খেলোয়াড়রা ক্রীড়াক্ষেত্রে যদি এত উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখতে পারে তাহলে এই সুনাম বাড়ানোর জন্যই দরকার পৃষ্ঠপোষকতা।’
যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ক্রীড়াবিদরা দেশের জন্য আরও অনেক সুনাম বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাদের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে - আপনারাও কিন্তু একজন ক্রীড়াবিদকে চাকরি দিতে পারেন বা আপনাদেরও একটা ক্রীড়া সংগঠন থাকতে পারে। বিভিন্ন প্রতিভা ছড়িয়ে আছে সারা দেশে। সেসব প্রতিভাগুলোকে আপনারা কুড়িয়ে আনেন এবং তাদের একটু সুযোগ করে দেন। আপনারা দেখবেন বাংলাদেশের জন্য এরাই সবথেকে বেশি সুনাম বয়ে আনবে।’
জাতির পিতাই ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ফাউন্ডেশন করে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, যাকে তার সরকার পরবর্তীতে সীডমানি দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেয়। সেখান থেকে বর্তমানে প্রায় ৫০০ জনকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যারা বৃত্তশালী আছেন তাদেরকেও আমি বলবো ক্রীড়া সেবীদের কল্যাণে এই ফাউন্ডেশনে আপনারাও অনুদান দেবেন। কারণ, আমি জানি আপনাদের অনেক পুরনো খেলোয়াড় রয়েছেন যারা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের চিকিৎসার কোনো সুযোগ থাকে না। অনেকে আর্থিক সংকটেও পড়ে। কারণ, খেলাধুলাতো বেশি বয়স পর্যন্ত করা যায় না। কিন্তু তাদের পরবর্তী জীবনটা কেমন হবে, সেটাও একটা বড় কথা।’
সূত্র : বাসস