× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাঘের শিকার প্রজাতি কমেছে সুন্দরবনে

আমিনুল ইসলাম মিঠু

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১১:২৮ এএম

সুন্দরবনে গাছের ডালে বিশ্রাম নিচ্ছে একটি বাঘ। সম্প্রতি ছবিটি তুলেছেন আদনান আজাদ আসিফ

সুন্দরবনে গাছের ডালে বিশ্রাম নিচ্ছে একটি বাঘ। সম্প্রতি ছবিটি তুলেছেন আদনান আজাদ আসিফ

একসময় সুন্দরবনে ৮ থেকে ১০ ধরনের প্রাণী শিকার করত বাঘ। কিন্তু এখন শুধু হরিণ ও শূকরের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীটি। তবে কখনও গুইসাপ, সজারু ও বানর শিকার করে। প্রথমবার বাঘের শিকার প্রাণী নিয়ে করা গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাঘের ৮৯ ভাগ খাবার জোগান দিচ্ছে হরিণ। এ ছাড়া গত শতকে বিলুপ্ত হয়েছে বাঘের তিন প্রজাতির শিকার।

২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত চলে এ গবেষণা। সম্প্রতি বন বিভাগে বাঘের শিকার প্রাণী জরিপের ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন গবেষকরা। আজ ২৯ জুলাই বন অধিদপ্তরের বিশ্ব বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে বাঘের শিকার প্রাণীর সংখ্যা ও সেই প্রতিবেদন।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন বনে বিচরণ করা বাঘ খরগোশসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যেমন গরু, মহিষ, সাম্বার হরিণের মতো বড় প্রাণী খেয়েও টিকে থাকে। এ ছাড়া জলজ প্রাণীও খায়। কিন্তু সুন্দরবনে এখন কমেছে বাঘের শিকার প্রাণীর প্রজাতি-বৈচিত্র্য। তাই এখন হরিণ ও শূকরের ওপর নির্ভরশীল বাঘ। অথচ একসময় সুন্দরবনে বড় বুনো মহিষ, সাম্বার হরিণ, প্যারা হরিণ ছিল। গত শতকের গোড়ার দিকে সেগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া মায়া হরিণ থাকলেও তা বিলুপ্তির পথে।

প্রাণিবিদদের মতে, শিকার প্রাণীর প্রাপ্ততার ওপর নির্ভর করে সুন্দরবনে বাঘের মতো শিকারি প্রাণীর টিকে থাকা এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি। অর্থাৎ বনের সুস্থ পরিবেশের সঙ্গে প্রয়োজন যথাযথ খাদ্যও। কারণ সুন্দরবনে বিচরণ করা একটি পুরুষ বাঘের প্রতিদিন অন্তত ৪০ কেজি খাদ্য তথা শিকারের মাংসের প্রয়োজন হয়। এতে সপ্তাহে কমপক্ষে একটি বা দুটি বড় আকারের হরিণ ও শূকর শিকার করতে হয় রাজসিক প্রাণীটিকে। বড় একটি পুরুষ বাঘ এক রাতে ১৫-৪০ কেজি মাংসও খেতে পারে। আর নারী বাঘ তার চেয়ে কিছু কম খেয়ে থাকে।

২০১৮ সালের সবশেষ শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। আর ভারতীয় অংশে রয়েছে ৯৬টি। অথচ ২০০৪ সালের জরিপে বাংলাদেশ অংশে বাঘ ছিল ৪৪০টি। অর্থাৎ ১৫ বছরে ৩২৬টি বাঘ কমেছে। গবেষকরা বলছেন, এই কমে যাওয়ার পেছনে বাঘের চোরা শিকার, পাচার এবং বনের ভেতর অস্থিরতা যেমন দায়ী ছিল, তেমনি শিকার প্রাণীর প্রজাতি ও সংখ্যা কমার কারণও থাকতে পারে। কারণ একসময় বনজুড়ে ছিল জলদস্যুদের আস্তানা। তারা যেমন বাঘ শিকার করেছে, তেমনি তাদের খাবারের জোগান এসেছে বাঘের শিকার প্রাণী থেকে অর্থাৎ হরিণ শিকার করে। প্রাণিবিদদের মতে, শিকারের প্রজাতি ও সংখ্যার ওপর নির্ভর করে একটি বনে কয়টি বাঘ থাকবে। এক্ষেত্রে শিকারের বৈচিত্র্য ও সংখ্যা কম হলে বাঘের সংখ্যাও কমে যাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ গবেষক ড. এম এ আজিজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সুন্দরবনে একসময় বুনো মহিষ, সাম্বার হরিণ ও প্যারা হরিণ ছিল। গত শতকের গোড়ার দিকে সেগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। এখন সুন্দরবনে বাঘের প্রধান শিকার হিসেবে টিকে আছে মাত্র দুটি প্রাণীÑ চিত্রা হরিণ ও বুনো শূকর। এ ছাড়া মায়া হরিণ, গুইসাপ ও সজারু থাকলেও এদের সংখ্যা কম। ভারতের বিভিন্ন ন্যাশনাল পার্কে বাঘের খাদ্যের জন্য ৮ থেকে ১০ প্রজাতির শিকার প্রাণী আছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনে মায়া হরিণও বিলুপ্তির পথে।’

বন বিভাগের হিসাবমতে, ২০০১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে বাঘ মারা গেছে কমপক্ষে ৪৬টি। এর মধ্যে প্রাকৃতিক কারণে ৮টি, শিকারিদের হাতে ১৩টি, লোকালয়ে প্রবেশ করায় স্থানীয়দের হাতে ৫টি, দুর্বৃত্তদের হাতে মারা যাওয়া বাঘের চামড়া উদ্ধার হয়েছে ১৯টি ও ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে মারা গেছে একটি। তবে বাকিগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। 

তবে বন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেশ বেড়েছে। কয়েক দফায় বনে কখনও পাঁচটা বা কখনও চারটা বাঘ একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। গাছে বসে বাঘ ঝুলছে এমন ছবিও দেখা গেছে। এক জায়গায় তিনটি বাঘকে বিশ্রাম নিতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে বন বিভাগের অফিসেও তিনটি বাঘ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছিল। এগুলোই বাঘের ভালো অবস্থানের ইঙ্গিত। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের মার্চে এ জরিপের ফল প্রকাশ করবে বন বিভাগ। তখন ভালো খবর মিলতে পারে।’

বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, সুন্দরবনে বাঘ ৬ ধরনের শিকার ধরে। বিভিন্ন সময় আমরা বাঘকে চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, গুইসাপ, বন্য শূকর, সজারু ও বানর খেতে দেখেছি। আগে এসব প্রাণীর জন্য ২৩ শতাংশ অভয়ারণ্য সংরক্ষিত ছিল। এখন ৫৩ শতাংশ করা হয়েছে। এতে প্রজননক্ষেত্র বেড়েছে।

সুন্দরবনে প্রথমবার বাঘের শিকার প্রাণী গবেষণা

সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব কত হলে তাদের খাদ্য ঘাটতি হবে না কিংবা বনের বাংলাদেশ অংশে কতটা বাঘ থাকলে প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তা নিয়ে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো গবেষণা হয়নি। তবে দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারিভাবে‍ গত মার্চে শেষ হয়েছে বাঘের শিকার অর্থাৎ খাদ্য গবেষণা। গবেষণাটিতে আর্থিক সহায়তা করেছে জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)। এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এমএ আজিজ।

গবেষণায় সুন্দরবনের ২৫৫টি খাল ও নদী এবং ১ হাজার ২৮১ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ করা হয়। এজন্য সুন্দরবনকে ৮০৮টি প্লটে ভাগ করেন গবেষকরা। দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণায় দেখা গেছে, বাঘের ৮৯ ভাগ খাবার আসে হরিণ থেকে। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রতি কিলোমিটারে হরিণ আছে প্রায় ৩৫টি। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮০৮টি প্লটের মধ্যে থাকা হরিণ ও শূকরের মল নমুনা ও গবেষণার বিভিন্ন তত্ত্ব ব্যবহার করে সম্প্রতি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সুন্দরবনে এখন চিত্রা হরিণের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫৭টি, বুনো শূকর ৪৫ হাজার ১১০টি, মায়া হরিণ ৬৮৭টি, গুইসাপ ২৫ হাজার ১২৪টি ও সজারু রয়েছে ১২ হাজার ২৪১টি। এ ছাড়া রেসার্স ম্যাকাক প্রজাতির বানর ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪টি। তবে ২০১৮ সালে এক জরিপে বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনে ৮০ হাজার হরিণ রয়েছে। আর নতুন গবেষণায় বনে মোট হরিণ (চিত্রা ও মায়া) ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪। অর্থাৎ হরিণ বেড়েছে ৬১ হাজার ৪৪টি।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক ড. এম এ আজিজ বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মোটামুটি ভালো বলা যায়। তবে এর বিপরীতে বাঘের খাদ্য বা প্রধান শিকার প্রাণী হরিণ ও শূকর নিয়ে কোনো গবেষণা আগে ছিল না। বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত কোনো তথ্যও নেই। এ গবেষণার মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘের খাদ্যের একটি ভিত্তি তৈরি হবে। এতে আগামীতে বাঘের ধারণক্ষমতা যাচাই করাও সম্ভব হবে।’

বাঘ গবেষক অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান বলেন, ‘প্রতিটা বাঘের জন্য ৫০০টি হরিণ, শূকর বা এর সমান প্রাণী প্রয়োজন। শিকার প্রাণীর প্রজনন যতটা হয়, বাঘ সে হারে খেয়ে থাকে। এর মাধ্যমেই দুই প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হয়। প্রতিটি বাঘের জন্য ৫০০টি হরিণ না থাকলে, বাঘের সংখ্যা সে হারে কমে ভারসাম্য ঠিক হয়। তাই বাঘের সংখ্যা বাড়াতে শিকার প্রাণীর সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারতে বাঘ সংরক্ষণ

বাংলাদেশ ও ভারতের বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেখানকার বন বিভাগ অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে ভারত অংশের সুন্দরবনে বাংলাদেশের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। এ ছাড়া বাঘের শিকার প্রাণী সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। পাশাপাশি দুই দেশের পক্ষ থেকেও যৌথ প্যাট্রোলিং হচ্ছে। পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও এখন উন্নত হয়েছে। 

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের সুন্দরবনে মানুষের চলাচল ভারতীয় অংশ থেকে বেশি। তাছাড়া সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পর্যটক প্রবেশের কারণে বাঘ ও বাঘের শিকার প্রাণীর অবাধ বিচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যটকবাহী জাহাজের শব্দ ও পর্যটকদের কোলাহলে শিকার প্রাণীরা বিচরণে ভয় পায়। তেমনি বাঘও শিকার পেতে বেগ পায়।

ভারতের বন্য প্রাণী গবেষক কৌস্তভ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে ভারতের সুন্দরবনের ভেতর যেসব আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করত, তাদের সরিয়ে অন্যত্র পুনর্বাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরা শিকার ও পাচার রোধে বাঘের বিচরণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও জনসাধারণের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সীমিতকরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সুন্দরবনে স্থানীয়দের মাধ্যমে ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলায়, তারাও বাঘ, হরিণ ও শূকরসহ শিকারি প্রাণী যাতে কেউ শিকার না করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করছেন স্থানীয়রা। কারণ তারা জানেন, বনে বাঘ, হরিণ না থাকলে পর্যটক যাবে না। এতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

প্রতিবছর ২৯ জুলাই বাংলাদেশসহ বাঘসমৃদ্ধ ১৩টি দেশ ‘বিশ্ব বাঘ দিবস’ পালন করে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘বাঘ করি সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ হবে সুন্দরবন’। বাঘ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেন্ট পিটার্সবার্গ টাইগার সামিটের মাধ্যমে ২০১০ সাল থেকে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দিবসটি উদযাপনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা