× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

করোনার পরেও করোনার ধাক্কা

সেলিম আহমেদ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১০:২২ এএম

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১০:২৪ এএম

করোনার পরেও করোনার ধাক্কা

করোনা মহামারিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে বিপর্যয় ঘটে গেছে, তা এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি- গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমনটাই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। করোনার ধকল সামলে দুই বছর পর এবার এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে পূর্ণ নম্বরে এবং পূর্ণ সিলেবাসে। গতকাল প্রকাশিত হয়েছে সেই এসএসসির ফল। গত বছরে তুলনায় এবার পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ও শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণিত বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় ফল খারাপ হয়েছে। 

যদিও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এবার পাসের যে হার সেটা করোনার পূর্ববর্তী স্বাভাবিক সময়ের পাসের হারের সঙ্গে খুব সঙ্গতিপূর্ণ। তার মতে, গত দুই বছর পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা হয়নি, অল্প কয়েকটি পরীক্ষা হয়েছিল, সময় অল্প ছিল, প্রশ্নপত্র কম ছিল, তাই পরীক্ষার পাসের হার বেশি ছিল। এবার পূর্ণ নম্বরে সকল বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে। তাই গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে, এটা খুবই স্বাভাবিক।

তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ব্যাচ পরিচিতি পেয়েছে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাচ হিসেবে। করোনা মহামারির কারণে এই শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণিতে অটোপাস পেয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতেও ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেনি। তারপরও এবার পাসের হার স্বাভাবিক সময়ের কাছাকাছি। তাই এই ফল নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এসএম হাফিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এবারের এসএসসি শিক্ষার্থীরা হলো করোনার মূল শিকার। তারা করোনার কারণে অষ্টম শ্রেণিতে অটোপাস, নবম ও দশম শ্রেণিতে ক্লাস করতে না পারায় ব্যাপক শিখন ঘাটতির শিকার হয়। তাদের এই শিখন ঘাটতি রোধ করতে সরকারের বিশেষ কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই ফল খারাপ হয়েছে।

পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ 

এবার ছুটির দিনে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশের সুযোগ খুব একটা ছিল না। তা ছাড়া রাজধানীতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতিও ছিল কিছুটা থমথমে। 

রেওয়াজ অনুযায়ী গতকাল সকাল ৯টায় সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ফলাফল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্পদের মধ্যে শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যেটা কেউ কেড়ে নিতে পারে না, সব সময় কাজে লাগবে।’ আর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা কৃতকার্য হতে পারেনি, মনে দুঃখ নেওয়ার কিছু নেই। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলেই তারা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। একটু পিছিয়ে পড়লেও ক্ষতি নেই, তারা আবার এগিয়ে যেতে পারবে।’

সকাল সাড়ে ১০টায় ফল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর বেলা ১১টায় ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, এবার পাস করেছে ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ শিক্ষার্থী। ফেল করেছে ৪ লাখ ৩১০ শিক্ষার্থী। এবার ৯ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) এবং মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা গড় পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ছিল ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সেই তুলনায় পাসের হার কমেছে ৭.০৫ শতাংশ। তার আগের বছর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কিন্তু এই দুই বছর করোনার মহামারির কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তার কারণে পাসের হার কিছুটা বেশি ছিল। তবে করোনার পূর্ববর্তী স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ আর ২০১৯ সালে ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। সেই হিসেবে ২০২০ তুলনায় এবারের পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ আর ২০১৯ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৮১ শতাংশ পাসের হার কমেছে। 

পাসের হার কমার সঙ্গে এবার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ৮৬ হাজার ২৪টি। 

এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে পাসের হার ৮০.৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২২০ শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অধীনে দাখিলে পাসের হার ৭৪.৭০ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ২১৩ শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিলে (ভোকেশনাল) পাসের হার ৮৬.৩৫ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ১৪৫ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দেশের বাইরের ৮টি কেন্দ্র থেকে ৩৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩২০ জন। পাসের হার ৮৫.৩৩ শতাংশ।

গণিতের খারাপের কারণে ফল খারাপ

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর পাঁচটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডÑ ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর এবং মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা গণিতে তুলনামূলক খারাপ করেছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ড ৮৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ড ৮৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর মাদ্রাসা বোর্ডের ৮৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

ফল খারাপ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, এবার গণিতে তুলনামূলক ফল খারাপ হয়েছে। এর কারণ গণিতের প্রশ্ন এবার কঠিন হয়েছে। যার কারণে অনেকেই ফেল করেছে। 

একই কথা জানান সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর অরুন চন্দ্র পাল। বলেন, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নপত্র পেয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। যার প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে মেধাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় তারা সঠিক নির্দেশনা পাচ্ছে না, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটও রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ফলাফলের ক্ষেত্রে।

পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ এগিয়ে মেয়েরা

বরাবরের মতো এবারও পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার গড় পাসের মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৮১.৮৮ শতাংশ আর ছেলেদের পাসের হার ৭৮.৮৭ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেয়ে ৯৮ হাজার ৬১৪ জন আর ছেলে ৮৪ হাজার ৯৬৪ জন।

শতভাগ পাস ২ হাজার ৩৪৫টি, শতভাগ ফেল ৪৮টি প্রতিষ্ঠান

গত বছরের তুলনায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এবার কমেছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা গত বছর ছিল ৫০টি। এ ছাড়া এবার শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৩৫৪, যা গতবার ছিল ২ হাজার ৯৭৫টি। 

পাসে এগিয়ে বরিশাল, পিছিয়ে সিলেট

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে গত বছরের মতো এবারও পাসের তালিকায় পিছিয়ে রয়েছে সিলেট বোর্ড। এই বোর্ডে ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। 

এ দুই শিক্ষা বোর্ডের বাইরে অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার যথাক্রমে- রাজশাহী ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যশোর ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, ময়মনসিংহ ৮৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, কুমিল্লা ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রাম ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ঢাকা ৭৭ দশমিক ৫৫ এবং দিনাজপুর ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা