× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আউটসোর্সিংয়ের উদ্যোগ রেলের স্থায়ী পদে

রাশেদুল হাসান

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৩ ১০:০৭ এএম

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩ ১৪:০০ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কার্পেন্টার, পেইন্টার, পয়েন্টসম্যান, গেটকিপার, ঘোষক, বার্তাবাহক- এসব রেলওয়ের স্থায়ী পদ। রেলওয়ের ক্যাডারবহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ অনুযায়ী এ পদগুলোতে জনবল নিয়োগ হবে সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে। আবার আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০১৮-তেও বলা আছে, কোনো স্থায়ী পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করা যাবে না। এতকিছুর পরও এ পদগুলোতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের আয়োজন করছে রেলওয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এতে নিয়োগবিধি ও আউটসোর্সিং নীতিমালা দুটোই লঙ্ঘিত হবে। 

জানা গেছে, কার্পেন্টার, পেইন্টার, গাড়িচালক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, টালি সহকারী, পয়েন্টসম্যান, গেটকিপার, রানিং ব্লুম বাবুর্চি, বেডিং পোর্টার, পোর্টার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়েটিংরুম আয়া, রানিং ব্লুম বেয়ারার, ওয়েটিং রুম বেয়ারার, কার্পেন্টার হেলপার, বার্তাবাহক, ঘোষক, রিটায়ারিং রুম বেয়ারার ও বক্স পোর্টার ইত্যাদি পদে রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ হতে মোট ১ হাজার ৪২৪ জন জনবল আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে সেবা ক্রয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ চাহিদাপত্র রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল হতে পাঠানো হয়েছে।

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০১৮ এর ৩ নম্বর ধারার উপধারা ১-এ বলা হয়েছে, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পদ সৃষ্টির প্রয়োজন হবে না এবং কোনো পদের বিপরীতেও এ সেবা ক্রয় করা যাবে না।

রেলওয়ের ক্যাডারবহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০-এ স্থায়ী পদগুলোর নাম ও কীভাবে নিয়োগ হবে, তা বলা হয়েছে। রেলওয়ে কার্পেন্টার পদে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিতে চায়। নিয়োগ বিধিমালায় সরঞ্জাম বিভাগের ১৪ নম্বর স্থায়ী পদ এটি। এটির নিয়োগের বিষয়ে বলা আছে, এটি হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। এ পদের যোগ্যতা ও পরীক্ষা কীভাবে হবে তাও বলা হয়েছে। কার্পেন্টার হেলপার পদেও জনবল আউটসোর্সিং করতে চায় রেলওয়ে। এটি বিধিমালার ১৪০ নম্বর পদ। এ পদের নিয়োগ হবে পদোন্নতির মাধ্যমে। কলবয়, পোর্টার, বেডিং পোর্টার, রানিং রুম বেয়ারার, ওয়েটিং রুম বেয়ারার, রানিংরুম কুক, সিলম্যান, ডাক রানার, ওয়েটিং রুম আয়া, গেটকিপার ও লেবেলার পদে ন্যূনতম পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে, তারা এ পদে পদোন্নতি পাবেন।

এ ছাড়া, পয়েন্টসম্যান পদেও এ প্রক্রিয়ায় জনবল নিতে চায় তারা। তবে, নিয়োগ বিধিমালার ১৪৩ নম্বরে পদটির নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া খালাসি, কলবয়, পোর্টার, বেডিং পোর্টার, রানিংরুম বেয়ারার, ওয়েটিং রুম বেয়ারার, রানিংরুম কুক, সিলম্যান, ডাক রানার, ওয়েটিং রুম আয়া ও গেট কিপারকে নিয়োগ বিধির ১৪৬ নম্বর পদ, যার নিয়োগ হবে সরাসরি। এভাবে যেসব পদে রেলওয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিতে চায়, তার সবই স্থায়ী পদ।

রেলের কর্মীরা জানান, বর্তমানে এসব পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত ৭ হাজার কর্মীকে বাদ দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া করছে রেলওয়ে। অভিজ্ঞ লোকদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পদের সেবাগুলো বিশেষায়িত। অভিজ্ঞ লোকদের এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। নতুন লোক নিয়োগ দিয়ে এ সেবা দিলে রেলের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করবে। পাশাপাশি রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ নতুন কর্মীদের বেতনের পাশাপাশি জনবল সরবরাহকারী কোম্পানিকে কমিশনও দিতে হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এসব জনবল নিয়োগের জন্য টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ইতোমধ্যে এসব পদে যেসব অস্থায়ী কর্মী বা টেম্পরারি লেবার রিক্রুট করা হয়েছিল তাদের চাকরি ছাড়ার মৌখিক নোটিস করা হয়েছে। এ নোটিস পেয়ে তারা চাকরি বহাল থাকার জন্য সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে রেললাইন অবরোধ করেন। পরবর্তীতে তাদেরকে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে শান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগে রেলওয়ের বিভিন্ন পদে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন বছর কাজ করার পর কোর্টে মামলা করলে, তাদেরকে স্থায়ী করা হতো। কিন্তু নতুন নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এ স্থায়ী পদগুলোতে অস্থায়ীভাবে জনবল রাখার কোনো সুযোগ নেই। এ পদে নিয়োগ হবে সরাসরি বা পদোন্নতির ভিত্তিতে। এমনকি এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে, তাও বলে দেওয়া আছে। সুতরাং এসব পদে আউসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও নিয়োগ করা যাবে না কারণ আউটসোর্সিং করা যায় শুধু অস্থায়ী কিছু সেবার জন্য। 

সরকার এ অর্থ বছরের বাজেটে অস্থায়ী শ্রমিকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ রাখেনি বলে জানা গেছে। 

গত ১৬ জুলাই, লালমনিরহাট বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া গেটম্যান আবু মুসা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের অনেকে রেলওয়ের গেটম্যান পদে দশ থেকে পনেরো বছর চাকরি করছেন। তাদের আশা হচ্ছে চাকরিতে স্থায়ী হবেন। রেলের বিধানে আছে রেলে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন বছর চাকরি করলে চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। কিন্তু এখন রেলওয়ে অস্থায়ী পদে কোনো জনবল না রেখে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনগণ নিয়োগ দিতে চাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্যারেরা আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে আমাদের চাকরি নেই। এখন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। আমরা চাকরি করতে চাইলে এই আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে করতে হবে। এ সুযোগ পেতে আমাদের তিন মাস বেতন ছাড়া চাকরি করতে হবে। তারপর আউটসোর্সিং কোম্পানির আন্ডারে চাকরি করতে হবে। আমরা আউটসোর্সিং কোম্পানির আওতায় চাকরি করতে চাই না। আমরা রেলের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেতে চাই।’

তিনি জানান, তার মতো বিভিন্ন স্থায়ী পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক আছে, যারা টিএলআর নামে পরিচিত। তারা ২০২০ সালের নিয়োগ বিধিমালা তৈরির আগেই নিয়োগপ্রাপ্ত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ চলমান আছে। আমরা সব পদে তো একসঙ্গে নিয়োগ দিতে পারব না। কিছু পদ আছে সরাসরি নিয়োগ আবার কিছু আছে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ। যেসব পদে পদোন্নতির মাধ্যমে সেসব পদে এখনই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।’

ওই বিষয়টি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক জানান, বিধিমালা ও নীতিমালা মেনেই নিয়োগ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা