সিজিএসের গবেষণা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ২১:০৩ পিএম
বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিজিএস। সেই অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সংগৃহীত ফটো
দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্ট্যাডিজ – সিজিএস। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানেই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গবেষণার তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
‘বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষাকারীদের প্রতিকূলতা’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে সিজিএস দাবি করেছে, দেশের মানবাধিকারকর্মীরা প্রতিকূলতা এবং হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। শনিবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় মুখ্য গবেষক ও সিজিএসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রতিবেদনটির সারাংশ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মানবাধিকার রক্ষার কাজে দেশের ৬০ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হন। তাদের কাজের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। ব্যক্তিগতভাবে তারা শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এরপরই প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মী শুধু নয়, সাধারণ মানুষও অভিযোগ জানাতে পারেন। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো মানবাধিকার রক্ষায় কমিশনের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। প্রকৃত ঘটনা এমন নয়। আমরা প্রতি সপ্তাহে অনেক অভিযোগ পেয়ে থাকি। আমরা মানবাধিকারের বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। আমরা আইন এবং সংবিধানের প্রভিশনগুলো জানি; যেগুলো মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করে।’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন আলী রিয়াজ। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছিল কি না – জবাবে আলী রিয়াজ বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারো সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি। কারণ, আমরা কারও তদন্ত করছি না।’
মানবাধিকার রক্ষাকারী বলতে সিজিএস তাদের গবেষণাপত্রে কাদের বুঝিয়েছে – এই প্রশ্নের জবাবে আলী রিয়াজ বলেন, ‘জাতিসংঘের সংজ্ঞায়নেই যারা হিউম্যান রাইট ডিফেন্ডার, তারা কী পরিস্থিতিতে আছেন, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন এবং কাদের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন; সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘কথা বলা অর্থাৎ তাদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি। তারা আমাদের যা বলেছেন, সেটারই বিস্তারিত হলো এই প্রতিবেদন। যেখানে তারা বলেছেন, তারা মনে করছেন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তারা বিভিন্ন রকম সমস্যা মোকাবিলা করেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও তারা সমস্যা মোকাবিলা করেন এবং ক্ষমতাসীন দল থেকেও করেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এনডোরমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিকের – এনইডি অর্থায়নে পরিচালিত হয় সিজিএস। এনইডিকে বলা হয় ‘আধুনিক’ সিআইএ (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা)। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাবলয় টিকিয়ে রাখার তৎপরতাসহ নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত এনইডি।
এই প্রেক্ষিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে? এমন প্রশ্ন ছিল আলী রিয়াজের কাছে। তবে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।