প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ২০:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ দিনের সহচর, জাতীয় চার নেতার অন্যতম ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল (২৩ জুলাই) রবিবার। তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের এই দিনে (২৩ জুলাই) গাজীপুরের কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে আন্দোলনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পাশে থাকা এই নেতা বঙ্গতাজ হিসেবেও রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। প্রতিবারের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আজীবন সংগ্রামী রাজনীতিবিদ তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করতেন তিনি। ১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার পরের বছরই ১৯৪৪ সালে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তাজউদ্দিন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি ভাষা আন্দোলনকালে গ্রেফতার হন এবং নির্যাতন ভোগ করেন। ১৯৬৪ সালে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কারাগারে থাকা অবস্থায় এলএলবি পাস করেন মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক।
পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এ সংগঠনের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৬৬ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী তাজউদ্দীন ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র বাঙ্গালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অতর্কিতে শুরু করা বর্বর হামলা চলাকালে বাঙালির মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন। এর আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে যান তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুস্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাজউদ্দীন ভারতে যান এবং প্রবাসী সরকার গঠনের চিন্তা করেন। ৪ এপ্রিল দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাজউদ্দীনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। ১০ এপ্রিল তিনি আগরতলায় সরকার গঠন করার উদ্যোগ নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধকে সফল সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে তার অবদান ছিল অসামান্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর তাজুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় আরও তিন নেতা এএইচ এম কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাজউদ্দীনকে হত্যা করা হয়।
তাজউদ্দীন আহমদের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘তারুণ্যের প্রেরণায় বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ : বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ‘বঙ্গতাজ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা’র (বিটিএসএস) শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিটিএসএস ব্যবস্থাপনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এরশাদুর রহমান।