× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মানুষের চিকিৎসক দিয়ে চলছে মশা নিয়ন্ত্রণ!

ফয়সাল খান

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ০০:৩২ এএম

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩ ১১:৩৩ এএম

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী। ফোকাস বাংলা ফটো

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী। ফোকাস বাংলা ফটো

নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কোনো গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না নাগরিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলো। এমনকি মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটতত্ত্ববিদও নেই রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনোটিতে। এমবিবিএস ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও মশক নিধনকর্মী দিয়ে চলছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের দায়সারা কার্যক্রম।

এদিকে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৯ জুলাই) মৃত্যু ঘটেছে ১৯ জনের। মৃতের এ সংখ্যা দৈনিক মৃত্যুর হিসাবে চলতি বছরে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এ বছর মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৬; যাদের মধ্যে ৯৯ জনেরই মৃত্যু ঘটেছে চলতি জুলাই মাসের ১৮ দিনে।

গুরুত্ব পাচ্ছে না গবেষণা কার্যক্রম : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। অথচ তাদের কোনো কীটতত্ত্ববিদ নেই। নেই কোনো গবেষণাগারও। ১ হাজার ৫০ জন মশক নিধনকর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক মশক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করছেন। মূলত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপের আলোকে কাজ করছেন তারা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি) কোনো কীটতত্ত্ববিদ নেই বললেই চলে। তবে চলতি বছর ডিএনসিসি মেয়রের উপদেষ্টা হিসেবে একজন কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগ দিয়েছে ডিএনসিসি। ১৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার ও ৮০০ মশক নিধনকর্মী নিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাচ্ছে সংস্থাটি। 

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বাড়তি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মশক নিয়ন্ত্রণের কাজে কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংস্থা দুটি। ডিএসসিসি ১২ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। ডিএনসিসিও ১২ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন করে আরও ১০ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মশা একটি কীটপতঙ্গ। গবেষণা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন ছাড়া এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশা নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা থাকে কীটতত্ত্ববিদের। এমবিবিএস বা অন্য কোনো ডাক্তার সেই কাজ ঠিকমতো করতে পারবেন না। কেউ ডেঙ্গু বা অন্য কোনো রোগাক্রান্ত হলে ডাক্তাররা চিকিৎসা করতে পারেন, রোগের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করতে পারেন, ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করতে পারেন; কিন্তু মশক নিয়ন্ত্রণের মূল কাজের জন্য কীটতত্ত্ববিদ অপরিহার্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. বে-নজির আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে বোঝা যায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কার্যকর নয়। শুধু কোটি কোটি টাকা খরচ করে ওষুধ কিনলে হবে না। এখানে দরকার হলো কারিগরি জ্ঞান, এডিস মশার জীবনাচার সম্পর্কে জ্ঞান। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কীটতাত্ত্বিক সক্ষমতা। ল্যাবরেটরি দরকার, গবেষণা দরকার। তা না করে মশক নিধনকর্মীর মতো কার্যক্রম চালালে হবে না।’ 

তিনি বলেন, ‘এখনও সতর্ক না হলে, সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা না করলে পরিস্থিতি কী হবে বলা মুশকিল।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটতত্ত্ববিদ খুবই জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এ পদ ফাঁকা পড়ে আছে। জেলা কীটতত্ত্ববিদ নামে একটি পদ আছে, সেটাও দীর্ঘদিন ধরে খালি।’ 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার কীটতত্ত্ববিদ ড. জিএম সাইফুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটির সংশ্লিষ্টরা জানেন, কীভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কিন্তু তারা সে পথে হাঁটছেন না। কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগ করা দরকার হলেও তারা এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘বছরজুড়ে যেসব কাজ করা দরকার, সেটা করা হয়নি; এজন্য এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে তাৎক্ষণিক কোনো সফলতা মিলবে না।’

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘কীটতত্ত্ববিদরা মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ। তাদের পরামর্শ নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একজন কীটতত্ত্ববিদকে মেয়রের উপদেষ্টাও নিয়োগ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, গবেষণার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। 

‘পরিস্থিতি ভারত-সিঙ্গাপুরের চেয়ে ভালো’ : এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত ভারতসহ মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের থেকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো আছে।’ তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যায়নি।’ গতকাল বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

যদিও বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৯২ জন। এ বছর ২৫ হাজার ৭৯২ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। 

বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিমসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার পরও যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির লোকজন সচেতন হননি, সরেজমিন গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে মেয়রদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের পানির লাইনসহ সব ধরনের ইউলিটির লাইন কেটে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ 

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নির্মাণাধীন ভবনও মশা জন্মানোর জায়গা। এসব নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও না শুনলে জরিমানা, আইনগত ব্যবস্থা এবং সর্বশেষে এসব ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।’

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বাসায় না থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব সরকারি হাসপাতালে সিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।’ 

সভায় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, গত ১১ দিনে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়। এতে মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় সিটি করপোরেশনগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা