প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩ ২০:১৯ পিএম
রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ফাইল ফটো
রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে রেলে ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
তিনি বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের রেলব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তার অংশ হিসেবে শিগগিরই ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’
রবিবার (১৬ জুলাই) রেল ভবনের সভাকক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং তুরস্কের তুমাস তুর্কি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাল্টিং অ্যান্ড কন্সট্রাক্ট্রিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. হাবিবুর রহমান এবং তুমাস তুর্কি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাল্টিং অ্যান্ড কন্সট্রাক্ট্রিং কোম্পানির পক্ষে ইসমাইল হায়দারলি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় তুরস্কের কোম্পানিটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ৩৩৬.৮৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও টঙ্গী-জয়দেবপুরে ১১.২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট লাইন বৈদ্যুতিক লাইনে পরিণত করা যায় কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭০টি রেলস্টেশন রয়েছে। প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার রেলপথ বৈদ্যুতিক লাইনে রূপান্তর করার সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হবে ৫ লাখ ২৪ হাজার মার্কিন ডলার।
নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ’ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করে রেল চলাচলের জন্য ট্রাকশন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং টঙ্গি থেকে জয়দেবপুর অংশের কাজ করার জন্য তুমাস তুর্কি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাল্টিং অ্যান্ড কন্সট্রাক্ট্রিং কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা এই কাজ শেষ করবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, ’ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে রেলে গ্যাস ও ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার হচ্ছে। এতে কার্বন নির্গমন হয় না, এটি পরিবেশবান্ধব। তাই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইলেকট্রিসিটি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। এ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের সরাসরি রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।‘
এ প্রকল্পের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ চুক্তির মেয়াদ মোট ১২ মাস। ছয় মাসে তারা সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। বাকি ছয় মাসে বিশদ নকশা প্রণয়ন করবে। শিগগিরই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় কোম্পানিটি এই এলাকায় বৈদ্যুতিক রেল চলাচলে কারিগরি, পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উপযুক্ত হবে কি না, তা যাচাই করবে। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় বিশদ, প্রকৌশলগত নকশা, খরচ প্রাক্কলন, একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব, দরপত্র দলিল, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও বৈদ্যুতিক রেললাইন তৈরি করার জন্য সাংগঠনিক ও লজিস্টিক কাঠামো পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
রেলওয়ে বলছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের সময় যেমন কমবে পাশাপাশি ব্যয়ও কমবে।
২০১৬ সাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন প্রবর্তনের জন্য আলোচনা শুরু করে রেলওয়ে। এ সম্পর্কিত একটি সমীক্ষা প্রকল্পের ওপর ওই বছরের জুলাইয়ে পর্যালোচনা সভাও হয়। পরে ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাবস্টেশন নির্মাণসহ) প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করে। ২০২১ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তাই বর্তমানে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।