প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩১ পিএম
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২ ১১:৩৭ এএম
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা। ছবি : প্রবা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৫২ লাখ। অনেকেরই এ শুমারির জনসংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই সঠিকভাবে যাচাই করতে ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর দেশব্যাপী জনশুমারি যাচাই জরিপ করা হবে।
দেশের ৬৪ জেলার ৩৫৪ এলাকায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস শুমারি-পরবর্তী যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা শুমারির পিইসি (শুমারি-পরবর্তী গণনা) কার্যক্রম পরিচালনা করবে বিআইডিএস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গেস্ট অব অনার ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক মো. দিলদার হোসেন, পিইসি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ড. ইউনূস।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ট্যাবের মাধ্যমে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং-সিএপিআই পদ্ধতিতে করা হবে। ৯ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিটে নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান করা সব দেশি-বিদেশি নাগরিককে গণনার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ছয় মাসের কম সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করা নির্দিষ্ট এলাকার সব বাংলাদেশি নাগরিককে পুনরায় গণনা করা হবে। এরপর নতুন তথ্যের সঙ্গে আগে পাওয়া শুমারির তথ্য মিলিয়ে দেখে বলা যাবে শুমারিতে কতটা ভুলত্রুটি হয়েছে। তার পরই তথ্য সমন্বয় করে জনশুমারির মূল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে সুখবর দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একটি সুখবর আছে। মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হবে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল, কিন্তু সেপ্টেম্বরে কমেছে। এর কারণ ১ কোটি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ৪ কোটি লোক সুবিধা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে যারা সরাসরি মূল্যস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা উপকৃত হচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। আমরা তথ্যেও কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করব না। শুধু প্রক্রিয়াগত কারণে এটি দেরি হয়ে যাচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বিবিএস একটি ভালো শুমারি করেছে। এখন সেটির পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিবিএসকে আরও একটু স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। ভারতে পরিসংখ্যান সংস্থা যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করে বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, পিইসি কমিটি স্বাধীনভাবে এটা করবে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা কাজের শুরুতেই মেন্টাল ও ইথিক্যাল দিকটি নিশ্চিত করেছে। ফলে এটা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে ভালো পিইসি হবে। তথ্য যদি সঠিক না হয় তাহলে পরিকল্পনাও সঠিক হবে না। বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।
ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, সংখ্যাতত্ত্ব হচ্ছে টেবিলের পায়ের মতো। যার মাধ্যমে টেবিলটি দাঁড়িয়ে থাকে। তেমনি সঠিক পরিসংখ্যান না হলে কোনো পরিকল্পনাই সঠিক হবে না। ইউএন গাইডলাইন অনুসরণ করেই আমরা জনশুমারি করেছি। যদি ভুলত্রুটি থাকে আশা করছি পিইসির মাধ্যমে সেগুলো উঠে আসবে। এর মাধ্যমে বিবিএস বলে দেবে কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছে জনশুমারির কার্যক্রম।
প্রবা/ইউরি/এমজে//জেও