প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৩ ২১:২১ পিএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩ ২১:৫৫ পিএম
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সংগৃহীত ফটো
প্রতিবছর কমপক্ষে ১২ হাজার নারী জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই মৃত্যুকে একটি বড় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর দায় আমরা এড়াতে পারি না। একটু সচেতন হলে, একটু দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যটি সঠিক জায়গায় পৌঁছতে পারলে এই মৃত্যু এড়ানো যায়। জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং এর জন্য ভ্যাকসিনও রয়েছে। আবার যথাযথ স্ক্রিনিংসহ আরলি ডায়াগনোসিসের মাধ্যমে আগেভাগে স্তন ক্যানসার নির্ণয় করতে পারলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।’
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দীপু মনি বলেন, ‘এর সমাধান আমাদের নিজেদের কাছেই রয়েছে। নিজে নিজেও স্তন পরীক্ষা করা সম্ভব। রয়েছে বিনামূল্যে ভায়া টেস্ট ও সিবিই টেস্টের সুবিধা। তারপরও এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মায়েদের সুস্বাস্থ্যসহ জীবনরক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ’প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অভাবে, একটু সচেতনতার অভাবে দেশে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যু কাম্য হতে পারে না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো, পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করাসহ ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ’জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ ও স্তন ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে স্কুল হেলথ ক্লিনিক চালু একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’
কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) একেএম নূরুন্নবী কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ।
জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারবিষয়ক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা।