প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৩:০০ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম
জেবুন্নেছা বেগমের সঙ্গে ছেলে শিবলী মহম্মদ
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সলিম উল্লাহর স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম আর নেই। ৯৬ বছর বয়সে শনিবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শহীদজায়া জেবুন্নেছা বেগম ছয় ছেলে ও চার মেয়ের জননী৷ তার এক ছেলে শিবলী মহম্মদ প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী, ছেলে সাদি মহম্মদ বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী।
১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে সি-১২/১০ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার৷ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা সলিম উল্লাহর বাড়িতে নিয়মিত বৈঠকে আসতেন দলের শীর্ষ নেতারা, আসতেন বঙ্গবন্ধুপুত্র শহীদ শেখ কামালও৷
একাত্তরের ২৩ মার্চ তাজমহল রোডের বাড়িতে সেজ ছেলে সাদী মোহাম্মদ তকিউল্লাহর আঁকা বাংলাদেশের পতাকা উড়ান সলিম উল্লাহ, সেই পতাকা সেলাই করে দিয়েছিলেন জেবুন্নেছা বেগম। সেই পতাকা উড়ানোর সূত্র ধরে একাত্তরের ২৬ মার্চ অবাঙালি বিহারিদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে সলিম উল্লাহর বাড়ি৷ প্রথমে বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পরে ছুরিকাঘাত করা হয় সলিম উল্লাহকে। সেদিন মোহাম্মদপুরে যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল বিহারিরা, তার বলি হন সলিম উল্লাহসহ অনেকে।
সন্তানদের নিয়ে পালাতে গিয়ে দুই পা ভেঙে যায় জেবুন্নেছা বেগমের৷ এরপর বহু পথ পেরিয়ে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান তিনি৷ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের পর দেশে ফিরে এসে সেলাই কাজ করতে শুরু করেন তিনি৷ বহু কষ্ট আর তিতিক্ষার পর তার সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হন সমাজে৷ শনিবার ভোরে রত্নগর্ভা মায়ের সেই জীবনসংগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটল।
শিবলী মহম্মদের ছাত্রী ও নৃত্যশিল্পী স্নাতা শাহরীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শনিবার মোহাম্মদপুরে একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে শহীদজায়া জেবুন্নেছা বেগমের মরদেহ৷ রবিবার বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে মোহাম্মদপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে৷