প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ২০:৪৩ পিএম
কেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এ দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, তা জানতে অনতিবিলম্বে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত। তিনি বলেন, নিরূপণ করা হোক কারা, কেন দেশত্যাগ করছে অথবা দেশে থাকতে পারছে না।
শনিবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে ‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে’ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধিদের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাতটি দাবিও জানানো হয়। সেগুলো হল- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক জাতীয় কমিশন গঠন, দেবোত্তর সম্পত্তি আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশন যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আাদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনসহ সরকারি দলের বিগত নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু স্বার্থবান্ধব অঙ্গিকারসমূহ বাস্তবায়ন।
ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সদস্য অতুল চন্দ্র মন্ডল, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দারসহ প্রতিটি বিভাগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
রাণা দাশ গুপ্ত বলেন, এই সংগঠন কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ অনেক দূরে ছিটকে গেছে। আজও বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় আবরণ থেকে মুক্তি পায়নি। গত ৫০ বছরে ১১ শতাংশ লোক যে হারিয়ে গেল, এরা কারা? এ দেশে গণতন্ত্র ও সমাজ প্রগতির পক্ষে নির্ভীক সৈনিক হিসেবে আন্দোলন করেছিল, স্বাধীন বাংলাদেশেও এরা গণতন্ত্র এবং সমাজ প্রগতির পক্ষে কাজ করেছে। কেন এই সংখ্যালঘুরা দেশ ত্যাগ করছে? আজ পর্যন্ত কোনো সরকার এর কারণ নির্ণয় করতে পারেনি।
অতুল চন্দ্র মন্ডল বলেন, যার দল নাই তার বল নাই। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মানুষজন এখন নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে। আমাদের সবার এক হয়ে দলবেধে লড়াই করতে হবে।
চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, পূজার চার মাস বাকি। এতো তাড়াতাড়ি কেন আমরা পূজা নিয়ে ভাবছি সেই প্রশ্ন আসে। এদেশে তো পূজা করতে কোনো কমিটিরই দরকার ছিল না, কেন ভাবতে হয় কোথায় পূজা করব। খয়রাতি চাল, ডাল, ভাত আমরা নেব না। আমার পরিবার জমিদার পরিবার ছিল। অনেক সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তিতে এখনো অন্তর্ভূক্ত। আমাদের নেই এমন না। আমাদের যা আছে তা দিয়ে যেখানে সেখানে যেকোনোভাবে পূজা উদযাপন করব।
নিজেদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে ঐক্য নেই। কেন ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ এক না হয়ে প্রায়ই বাকবিতণ্ডায় যায়? এর একটা সমাধান প্রয়োজন।
মানিকগঞ্জের সদস্য অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ বলেন, ক্রান্তিকাল ৫২ বছরেও শেষ হয়নি। রাজাকার আলবদর ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ছদ্মবেশে বসে থাকা জামায়াত, বিএনপি যতদিন ঘাপটি মেরে বসে থাকবে ততদিনেও এ ক্রান্তিকাল শেষ হবে না।