রাশেদুল হাসান
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১৩:১০ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩ ১৪:২৩ পিএম
ফাইল ফটো
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিকল্প হিসেবে ডেমরা দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ঢাকায় প্রবেশের বিকল্প পথ তৈরি করতে ২০১৬ সালে হাতিরঝিল-আমুলিয়া-ডেমরা চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এটি বাস্তবায়ন করার কথা।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে চায়না কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। চুক্তির ৯ মাসের মধ্যে কাজ শুরুর করার কথা ছিল, কিন্তু ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি। নতুন করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি অংশীদার চায়না কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন কনসোর্টিয়ামের ২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পে ১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। কিন্তু কনসোর্টিয়ামটি এখনও প্রকল্পে বিনিয়োগের তহবিল সংগ্রহ করতে পারেনি। প্রকল্প কর্তৃপক্ষও বুঝিয়ে দিতে পারেনি জমি। প্রধানত এই দুই কারণে এগোয়নি প্রকল্পটি। তবে চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে চায় তারা।
সওজ আরও জানিয়েছে, প্রকল্পের জমি নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আপত্তি রয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশ তৈরি করা হবে উড়ালপথে (এলিভেটেড)। নকশা অনুযায়ী, উড়ালপথের পিলারগুলো পড়েছে রামপুরা খালের পাড়ে। পাড় ঘেঁষে তৈরি করা পিলারের কারণে রামপুরা খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়াও এ সড়কের নির্মাণকাজের কারণে রামপুরা স্টর্ম ওয়াটার পাম্পের জেনারেটর সরাতে হবে। এ নিয়ে আপত্তি তাদের।
এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের বাধা হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র। এ ছাড়াও মেরাদিয়ায় একটি মার্কেটের নির্মাণকাজ চলছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিটিভির জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন, কারণ বিটিভির সীমানার ভেতরে বসবে কয়েকটি পিলার। এ ছাড়াও হাতিরঝিলের ইউলুপের সঙ্গে একটি এক লেনের সংযোগ লুপ করতে চায় তারা। এতে হাতিরঝিলে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে বলে আপত্তি রাজউকের।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, চুক্তির আওতায় সরকারের ৯টি ও অংশীদারদের ১৮টি শর্ত পূরণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে অংশীদাররা মাত্র ৭টি শর্ত পূরণ করেছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক বিনিয়োগের অর্থই সংগ্রহ করতে পারেনি অংশীদাররা। চুক্তির মেয়াদ ৯ মাস থাকে। এ সময়ে না হলে আরও ৯ মাস নেওয়া যায়। সরকারের পক্ষে জমি বুঝিয়ে দেওয়াসহ পরিষেবা লাইন সরানো যায়নি।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পকাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার আগে বসেছে তারা। সবকিছু ঠিক করে ডিসেম্বরে কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
এনামুল হক বলেন, ‘একটা র্যাম্প বিটিভির জায়গার ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা। কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে, তারা জায়গা দেবে না। কারণ এটা কেপিআই স্থাপনা। তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। ইউলুপের জায়গা দিয়ে তাদের অস্তিস্ত্ব এখন সংকটের মুখে। জায়গা না দিলে কীভাবে কাজটি করা যায়, তা দেখছি। সাউথ সিটি প্রকল্পের আওতাধীন এলাকা মেরাদিয়া মোড়ে নতুন মার্কেট করছে, আমাদের পরিকল্পনার কথা জানানোর পরও নির্মাণকাজ তারা করেই যাচ্ছে। আমরা ধরেই নিয়েছি, এখানে আর হবে না। আমাদের এক্সপ্রেসওয়েতে একটু বাঁক নিতে হবে। রামপুরা খালপাড়ে যে বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র আছে, তা অন্য জায়গায় সরাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, রামপুরা খালপাড়ে পিলার বসানো নিয়ে উত্তর সিটি মেয়রের সামনে একটি প্রেজেন্টেশন উত্থাপন করা হয়েছে। পিলার বসালে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় কি না, তা দেখতে মেয়র একটি কমিটি করে দিয়েছেন। এ কমিটির প্রতিবেদন পেলে অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে উঠতে না পারলে চুক্তি বাতিল হওয়ারও শর্ত আছে। তারা যদি মনে করে ৯০ শতাংশ হয়ে গেছে, তাহলে সময় বাড়ানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের সড়কটির সাড়ে ৯ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে। ভূমি সমান্তরালে থাকবে ৪ কিলোমিটার। চিটাগাং রোড, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মেরাদিয়া ও রামপুরা সেতু এলাকায় থাকবে চারটি ইন্টারচেঞ্জ। এ ছাড়াও সার্ভিস রোড, দুটি সেতু, দুটি কালভার্ট, একটি ওভারপাস, প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোয় ফুটওভার ব্রিজ ও একটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে কনসোর্টিয়াম অর্থায়নের পাশাপাশি তা পরের ২৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে তা ১৩ কিলোমিটারে নেমে আসবে। আর এক ঘণ্টার পরিবর্তে এর এক মাথা থেকে আরেক মাথায় পৌঁছাতে লাগবে ১০ মিনিট। তবে এটি ব্যবহারের জন্য টোল দিতে হবে। এক্সপ্রেসওয়েটির দুই পাশে থাকবে টোলমুক্ত সড়ক। চুক্তি অনুসারে সরকার টোলের পুরো অর্থ পাবে এবং কনসোর্টিয়াম পাবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক।