প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১৯:৩৪ পিএম
এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা অন্যান্য এশিয়ান দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, ’চীন বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে বিশস্ত সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকতে চায়।’
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিগত সময়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তারও উল্লেখ করেন তিনি।
চীনের জিডিপি এখন ১৯.৩৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ’উভয় দেশ পারস্পরিক লাভ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে পারে।’
ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ’এতে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’
ইয়াও ওয়েন এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ’শেখ হাসিনা যেভাবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ে নিজ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা চীন সব সময় সম্মান করে। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনো দেশের অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত।’
রাষ্ট্রদূত দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের বিষয়টি উল্লেখ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ফলে পরিবেশের সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পসংলগ্ন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে জানান। রাজশাহীতে নির্মাণ হতে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পে চীনা সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন আরও ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানান ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, ’বাংলাদেশ যদি প্রকল্প প্রস্তাব দেয় তাহলে চীন দুদেশের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে চায়।’
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চীনের অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এ সময় ৯০ দশকে চীনের শেনজিং ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ’চীনের অবকাঠামো, সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রমাণ তখনোই অনুধাবন করা যেত। বর্তমানে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি। এশিয়ান দেশ হিসেবে এ অর্জন আমাদের সবার জন্যই গর্বের।’
মন্ত্রী এ সময় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ প্রকল্পকে একটি আদর্শ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে উৎপন্ন বর্জ্য নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এ প্রকল্প বাংলাদেশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’
আলোচনা শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নিজেদের মধ্যে স্ব স্ব দেশের স্মারক উপহার বিনিময় করেন।