× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গাড়ির ফিটনেস না থাকলেই ডাম্পিং

শহিদুল ইসলাম রাজী

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩ ১১:৫৩ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সড়ক-মহাসড়কে দেদারসে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এসব যানবাহনের বেশিরভাগের চালকদেরই নেই লাইসেন্স। লাইসেন্সবিহীন চালকের ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চলার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ। এর পাশাপাশি মহাসড়কে বেপোরোয়া গতিতে চলছে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মালামাল বহনকারী গাড়ি।

স্বাভাবিকভাবে যে ওজন বহন করার কথা তার চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি ওজনের মালামাল নিয়ে এসব গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে। যা সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে রোড পারমিটবিহীন, ফিটনেসবিহীন এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন সড়কে চলাচল বন্ধ করতে এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মালামাল বহনকারী গাড়ি যাতে রাস্তায় চলতে না পারে সেজন্য হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

নির্দেশনায় বলা হয়, বিশেষ অভিযান পরিচালনা হচ্ছে তার মধ্যে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। প্রথমটি হলো ফিটনেসবিহীন গাড়ি আটক করে তা ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি ফিটনেসবিহীন গাড়ি ভাঙ্গারি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তাহলে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধের দায়িত্ব শুধু পুলিশের, অতএব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলাচল বন্ধ করতে হবে। কেস স্লিপ দিয়ে কোনো গাড়ি রাস্তায় যেন চলতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। 

সাম্প্রতিক সময়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে হাইওয়েতে চলাচলকারী গাড়ির মধ্যে ওভারওয়েট (ধারণক্ষমতার বেশি) মালামাল বহনকারী গাড়ির সংখ্যা ১০ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ওভারওয়েট গাড়ি আটকের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে স্টিকার যুক্ত গাড়িগুলোকে পরীক্ষা করে ত্রুটি পেলে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হাইওয়ে পুলিশ এবং প্রত্যেক জেলা পুলিশের পারফরম্যান্সও দেখা হবে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ সারা দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫৬ লাখ ৬১ হাজার ৪১৮। যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে। তবে সড়ক নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হবে। জানা গেছে, মোট যানবাহনের মধ্যে ফিটনেসবিহীন বাস প্রায় ২০ ভাগ, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ২৫ ভাগ ও পিকআপের ক্ষেত্রে ১০ ভাগ হবে। আর নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত হিউম্যান হলারের ৮০ ভাগই ফিটনেসবিহীন। বিআরটিএ বলছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ঠেকানো পুলিশের কাজ। তারা গাড়িগুলোকে জব্দ করলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি কমে যাবে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেশে যত ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে তার ২০ শতাংশ চলে মহাসড়কে। বাকি ৮০ শতাংশের মধ্যে ৬০ শতাংশ ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে ঢাকা শহরে। তবে মহাসড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য কিছুটা দায়ী এইসব লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে আমরা বার বার বলার পরেও সেগুলো বন্ধ হয়নি। তবে আশার ব্যাপার হলো সরকার বলেছে ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো গাড়ি আর রাস্তায় চলবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেগুলো সরাসরি ডাম্পিংয়ে চলে যাবে। এইসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে দ্রুত সরকারকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানও তিনি।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ। সড়কে যাতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে, ওভার স্পিড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি যাতে না চালাতে পারে সেজন্য পুলিশ বছরব্যাপী সোচ্চার থাকে। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা জিরো টলারেন্সে চলে আসুক। সে অনুসারেই কাজ করা হচ্ছে। 

আগের চেয়ে হাইওয়ে পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে উল্লেখ করে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, গত মে মাসে আমরা শুধু মহাসড়কে ২৫ হাজার মামলা দিয়েছি। স্টিকারযুক্ত গাড়ি অধিক তল্লাশির নির্দেশের বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বলেন, অনেক সময়ই আমাদের কাছে অভিযোগ আসে স্টিকার যুক্ত গাড়িগুলোতে অনিয়ম বেশি হচ্ছে। ফলে আমরা বলেছি, স্টিকারযুক্ত গাড়িগুলোর ওপর অভিযান জোরদার করতে। কাগজপত্র যদি ঠিক না থাকে বা অন্য কোনো ত্রুটি থাকে তাহলে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা