প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১৮:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩ ১৮:৪২ পিএম
জাতীয় পরিচয়পত্রে পর্দাপ্রথা অক্ষুণ্ন রেখে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২৩’- এ মুখচ্ছবি বাধ্যতামূলক না করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহারসহ তিনটি প্রস্তাব জানিয়েছে রাজারবাগ দরবার শরীফের মহিলা আনজুমান।
সোমবার (১৯ জুন) দুপরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মহিলা আনজুমানের মুখপাত্র শারমিন ইয়াসমিন এসব দাবি তুলে ধরেন।
মহিলা আনজুমানের অন্য দুটি প্রস্তাব হল- অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে অপরাধ রুখতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালু করা ও নারীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনে নারীর সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া।
শারমিন ইয়াসমিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, এনআইডি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার জন্য ফিঙ্গার ও আইরিস-ই যথেষ্ট। মুখচ্ছবিকে পুঁজি করে বরং অপরাধ ও দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ থাকে। এজন্য এনআইডিসহ রাষ্ট্রের সকল স্থানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
অসংখ্য নারী জাতীয় পরিচয়পত্র বঞ্চিত জানিয়ে শারমিন ইয়াসমিন বলেন, পর্দানশীন নারীদের রাষ্ট্রীয় নিবন্ধনে আসতে চাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক, শুধুমাত্র মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় এনআইডি বঞ্চিত হয়ে আছেন অসংখ্য পর্দানশীন নারী, যারা সরকারের নিবন্ধনের আওতার সম্পূর্ণ বাইরে। অথচ সরকারি ডাটাবেজে সকল নাগরিকের নিবন্ধন থাকা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ছবি বাধ্যতামূলক না করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডাটা নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে তাদের সাদরে জাতীয় নিবন্ধনের অন্তর্ভূক্ত করে নেওয়া।
এনআইডিতে ব্যক্তির মুখচ্ছবির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছবির সঙ্গে বাস্তব চেহারার অনেক অমিল থাকে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সর্বজন স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য। এ কারণে শুধু জাতীয় পরিচয় শনাক্তকরণেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবহার যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্রের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের বহুল ব্যবহার চালু করা এখন সময়ের দাবি।
মুখচ্ছবিকে বাধ্যতামূলক করে তাদেরকে এনআইডি বঞ্চিত করে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না জানিয়ে মহিলা আনজুমানের মুখপাত্র বলেন, শুধুমাত্র মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় নারীদের এনআইডি থেকে বঞ্চিত করে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন। বর্তমানে রাষ্ট্রের ২২টি মৌলিক ও নাগরিক অধিকার পেতে এনআইডির প্রয়োজন। কিন্তু শুধুমাত্র মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় লাখ লাখ নারী এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে ভোটার তালিকায় পুরুষের থেকে নারীর সংখ্যা ১৪ লাখ বেশি ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে এসে নারীর সংখ্যা পুরুষের থেকে ১৭ লাখ কমে গেছে। অথচ বর্তমান জনশুমারিতে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। ইসি নিজেও স্বীকার করেছে- ধর্মীয় কারণে ছবি তুলতে না চাওয়ায় ভোটার তালিকায় নারীর অন্তর্ভূক্তি কম। ফলে তারা এনআইডিও পাচ্ছেন না। নারীর অগ্রযাত্রার যা বড় ধরনের বাধা।
নারীকে এনআইডির আওতায় না আনতে পারাকে ইলেকশন কমিশনের ব্যর্থতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক নারীকে এনআইডির আওতায় আনতে না পারার ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণ ইসির। বিশেষ করে পর্দানশীন নারীদের সমস্যা হচ্ছে এ কথা জানার পরও বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হয়নি ইসি, বরং প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করে গেছে।
ছবি বিহীন আইডি কার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আমিশ ও মেনোনাইট উপদলটি প্রাণীর ছবি তোলাকে ধর্মবিরোধী বলে বিশ্বাস করে। ২০১৯ সালে ভার্জিনিয়া সরকার তাদের দাবি পূরণ করে ছবিবিহীন এনআইডির সুযোগ করে দেয়। পাকিস্তানও নারীদের প্রাইভেসির কারণে ২০০৭ সালে এনআইডি কার্ডে নারীদের ছবি দেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়। কানাডার ব্রিটিশ কলোম্বিয়া রাজ্যেও ছবিবিহীন এনআইডি কার্ডের প্রচলন আছে। সুতরাং এতকিছুর পরও পর্দানশীন নারীদের এনআইডি থেকে বঞ্চিত করে রাখার আর কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।
মহিলা আনজুমানের মুখপাত্র বলেন, নতুন পরিচয় নিবন্ধন আইনে এনআইডির দায়িত্ব যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যাচ্ছে, তাই মহিলা আনজুমান আশাবাদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্দানশীন নারীদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং তাদের ধর্মীয় অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই এনআইডি সুবিধা প্রদান করবে।