প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩ ১৯:০৫ পিএম
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন। ছবি : ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের
(র্যাব) ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে চীন। ঢাকার চীনা দূতাবাসের
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বুধবার (১৪ জুন) গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিনের সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হয়েছে।
গ্লোবাল টাইমসের পক্ষ থেকে ওয়াং ওয়েনবিনকে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি
বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে বিভ্রান্তিকর মনে করছেন। সেই সঙ্গে এগুলোকে গেম (খেলা) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন,
‘(যুক্তরাষ্ট্র)
যেকোনো দেশেই সরকার পতনের ক্ষমতা রাখে।‘ (তবে) বাংলাদেশ
নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পায় না এবং বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর কাছ থেকে
কোনো কিছু কেনা বন্ধ করতে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে চীনের বক্তব্য কী?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য
চীনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং ওয়েনবিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত
করে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে নিজস্ব জাতিগত বৈষম্য, বন্দুক সহিংসতা
ও মাদকের বিস্তারের সমস্যার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দেশ দীর্ঘদিন ধরে
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ
বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের জনগণের শক্ত অবস্থানই
নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় অংশের মনের কথাও বলেছেন।’
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের বিষয়ে ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ’চীন ও বাংলাদেশ
ঐতিহাসিকভাবে বন্ধু প্রতিবেশী। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা
রক্ষা, দেশীয় ও বৈদেশিক নীতিতে দেশটির স্বাধীন অবস্থান এবং জাতীয় বাস্তবতার সাপেক্ষে
মানানসই উন্নয়নের পথ অনুসরণকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে বেইজিং।’
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার
রাজনীতির বিরোধিতা করি। জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের
প্রতি দায়বদ্ধ বিশ্বব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিগুলোকে সমুন্নত
রাখতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।’