প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ১৬:২০ পিএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩ ১৮:০৯ পিএম
সিরাজুল আলম খান। ছবি : সংগৃহীত
মা সৈয়দা জাকিয়া খাতুনের শাড়িতে মুড়িয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার আলীপুর গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খানকে।
মৃত্যুর পর তার মুখ কাউকে দেখতে না দেওয়ার যে নির্দেশনা তিনি স্বজনদের দিয়ে গিয়েছিলেন তাই পালন করবেন তার প্রিয়জন ও রাজনৈতিক সহচররা৷
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন সিরাজুল আলম খান৷
জাসদের পর জাসদ (ইনু), বাসদ, জেএসডি, বাংলাদেশ জাসদ নামে নানা অংশে বিভক্ত হয়েছে৷ তবে শুক্রবার তার মৃত্যুর খবরে জাসদের সব অংশের নেতারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসেছেন৷
জেএসডির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীকে নিয়ে ঢামেকে এসেছেন দলের সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আ স ম আব্দুর রব৷
কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ’মায়ের শাড়িতে মুড়িয়ে তাকে নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে৷ তার শেষ নির্দেশনা ছিল, মৃত্যুর পর তার মুখ যেন কাউকে দেখতে দেওয়া না হয়। সে মোতাবেক এখন জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত হবে।’
সিরাজুল আলম খান ১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আ স ম আবদুর রব বলেন, ’বাঙালি জাতি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সিরাজুল আলম খানের অবদান অপরিসীম। স্বাধীনতার আগে ১৯৬২ সালে নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ গঠন করে ছাত্রসমাজকে মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেমন তিনি৷ তার নির্দেশনায় প্রণীত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, রচিত হয় স্বাধীনতার ইশতেহার। শোষণমুক্তির পথে একটি বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি৷ তার সে পথেই রাজনীতি করেছি আমরা৷ আজ রাজনীতির সেই কালপর্বের সমাপ্তি হলো৷’
আরও পড়ুন : এক জীবনে সিরাজুল আলম খান
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ’রাজনীতিতে আজ এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো৷ পথপ্রদর্শককে হারিয়ে ফেললাম আজ৷’
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানও এসেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শিবিরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘আমরা প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে এসে যুদ্ধে অংশ নেব বলে কলকাতা এসেছি সবে৷ তখন দেখা হলো দাদাভাইয়ের সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ভাবিস না, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে৷ তিনি যে কত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ ছিলেন তা তখন বোঝা হয়ে যায়৷’
বাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজও আসেন ঢামেক হাসপাতালে৷
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে জাসদ গঠিত হয়েছিল, ১৯৮০ সালে এসে আমরা দেখি শ্রেণিসংগ্রামের আন্দোলেনে সেই জাসদ তার অবস্থানে নেই৷ বেরিয়ে এসে আমরা বাসদ গঠন করি। কিন্তু পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে সংগ্রাম, সেই পথে আমরা সব সময় সিরাজুল আলম খানকে স্মরণ করব৷’
গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিও শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে৷
সাইফুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও সিরাজুল আলম খান এক ও অবিচ্ছেদ্য নাম৷ সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গেলেও দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিয়ে গেছেন৷ আফসোস, স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম রূপকারকে যথাযথ সম্মান জানাতে পারেনি এ রাষ্ট্র।’