প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩ ১৬:৫৫ পিএম
সিরাজুল আলম খান। সংগৃহীত ফটো
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশের রাজনীতির ‘রহস্যপুরুষ’ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল আলম খানের (দাদাভাই) মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
শুক্রবার (৯ জুন) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপুর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শোকবার্তায় আবদুর রব বলেন, ’সিরাজুল আলম খান ছিলেন স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ, নেপথ্যের নায়ক ও সফল স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, যুব ও ছাত্রদের মনে স্বাধীনতার অগ্নিশিখা ছড়িয়ে দেওয়ার মন্ত্র এবং সকল সংগ্রাম-আন্দোলনকে গণ-আন্দোলনে রূপান্তর করে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনার অন্যতম কৌশল প্রণয়নকারী ছিলেন তিনি।’
১৯৬২ সালেই স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি নিউক্লিয়াস গঠন করেন। এই নিউক্লিয়াসই ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ৬ দফা, ১১ দফাসহ প্রতিটি আন্দোলনকে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টির কাজে রূপ দিতে গুরু দায়িত্ব পালন করে। একাত্তরের পূর্বেই সম্ভাব্য সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধকে হিসেবে রেখে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়। জয় বাংলা বাহিনী গঠন, জাতীয় পতাকা তৈরি ও উত্তোলন, জাতীয় সংগীত নির্ধারণ, বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে স্বাধীনতার ইশতেহার প্রণয়ন, অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের ভাষণসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমন্বয় সাধনে ঐতিহাসিক ও যুগান্তরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে অনন্য ইতিহাসের নায়ক তিনি।
আরও পড়ুন : এক জীবনে সিরাজুল আলম খান
আবদুর রব বলেন, ’’সশস্ত্র মুক্তি-সংগ্রামের পর ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন, স্বাধীনতা-সংগ্রামের চেতনায় সংবিধান প্রণয়ন, জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর গঠন এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনীতিসহ ১৫ দফা করণীয় উত্থাপন করে রাষ্ট্র বিনির্মাণের রূপরেখা প্রদান করেন সিরাজুল আলম খান। ১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠন, ১৯৭৫ সালে সিপাহি জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী ছিলেন সিরাজুল খান। বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে অনেক অবিস্মরণীয় ঘটনার নেপথ্য নায়ক তিনি।’’
আবদুর রব আরও বলেন, ’’পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার বিপরীতে বাংলাদেশের জনগণকে শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী সামাজিক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে ১৪ দফা সম্মিলিত রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক মডেলসহ রাজনৈতিক তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। ইতিহাস তাকে বাঙালির দেদীপ্যমান ‘বাতিঘর’ হিসেবে ইতিহাসের ঐতিহাসিকতায় ধারণ করবে। সিরাজুল আলম খান ছিলেন আমার রাজনৈতিক দার্শনিক শিক্ষক। তার মৃত্যুতে দেশ অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালো। সিরাজুল আলম খান বাঙালির অন্তরাত্মায় সদা সর্বদা সর্বাগ্রে জাগ্রত থাকবেন।’’