প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:১৫ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০০:০৫ এএম
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিদ্যাভূষণ পাড়ায় ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের বাড়ি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের শত নাগরিক ব্যক্তিত্ব।
শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তারা।
প্রায় শতবর্ষ আগে রামনাথ বাইসাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন ভূপর্যটনে। দেশে দেশে ভ্রমণ করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, বাঙালির ঘরকুনো অপবাদ ঘোচানো এ মানুষটি লিখেছেন ভ্রমণবিষয়ক চল্লিশেক বই।
উদার-অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী রামনাথের জন্ম ১৮৯৪ সালে। ভ্রমণপিপাসু এ মানুষটি থিতু হতে চেয়েছিলেন বানিয়াচংয়ের বিদ্যাভূষণ পাড়ায়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর কলকাতায় চলে যেতে বাধ্য হন। সেখানেই ১৯৫৫ সালে মারা যান। কলকাতায় তার নামে রয়েছে একটি সড়ক। কিন্তু নিজভূমে বেদখল হয়ে গেছে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিও।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে--রামনাথ বিশ্বাসের বাড়িটি দখলে নিয়েছেন আবদুল ওয়াহেদ মিয়া, যিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আলবদর পরিবারের সদস্য।
আবদুল ওয়াহেদ মিয়া নিজে একসময় জামায়াত-বিএনপি করে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। পরে বানিয়াচং ২ নম্বর উত্তর পশ্চিম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রামনাথের বাড়ি দেখতে যাওয়া পর্যটক, বাইসাইকেল রাইডার ও সাংবাদিকের ওপর বিভিন্ন সময় হামলা চালান।
সবশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রাজীব নূরসহ চার সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন দখলদার ওয়াহেদ ও তার ছেলেদের হাতে। এ ঘটনার পর ওয়াহেদকে ১৪ সেপ্টেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করি শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা বড় কোনো সমাধান নয়। রামনাথ বিশ্বাসের বসতবাড়িটি দখলদারের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমাদের জানামতে, ওই বাড়ির প্রায় পাঁচ একর জমির সবটুকুই এখন সরকারি খাস খতিয়ানে। প্রকৃতপক্ষে সরকারই এ জমির মালিক। তাই বিস্মৃতপ্রায় ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের স্মৃতি রক্ষার দায়িত্বও সরকারের।
রামনাথ বিশ্বাসের বাড়িটি রক্ষায় লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিকর্মীরা মিলে গঠন করেছেন ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ কমিটি। ওই কমিটি পর্যটন দিবসে প্রতীকী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রামনাথের বাড়িটি পুনরুদ্ধারের পর সেখানে ভ্রমণবিষয়ক বইয়ের একটি বিশেষায়িত পাঠাগার এবং বাইসাইকেল মিউজিয়াম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসে রামনাথ বিশ্বাসকে নিয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
ভ্রমণ লেখক ও বাইসাইকেল রাইডাররা ২৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিশ্ব পর্যটন দিবসে হবিগঞ্জ থেকে সাইকেল চালিয়ে বিদ্যাভূষণ পাড়ায় যাচ্ছেন রামনাথ বিশ্বাসকে স্মরণ করতে।
বিবৃতিতে বলা হয়--শুধু রামনাথ বিশ্বাস নয়, সরকার উদ্যোগী হোক আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে যাওয়া সবার স্মৃতি সংরক্ষণে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন--ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সাম্মানিত সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, নাট্যব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার, শিমুল ইউসুফ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নাট্যজন অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, নাট্যকার রতন সিদ্দিকী, জলের গানের রাহুল আনন্দ, অভিনয়শিল্পী তানভীন সুইটি, আহসান হাবিব নাসিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন ও বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান।
প্রবা/আরকে/এমআই