প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩ ২০:৫০ পিএম
মঙ্গলবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু ঝুঁকি নিরসন এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। সংগৃহীত ফটো
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
মঙ্গলবার (৬ জুন) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু ঝুঁকি নিরসন এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফায়জুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সদস্য মালিক ফিদা এ খান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এবং এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। আলোচক হিসেবে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিরসনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ইনডেক্স অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একটি বলিষ্ঠ অভিযোজন পরিকাঠামো গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময়, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ন্যাপ সম্পর্কে জনগণের ভূমিকা সম্পর্কে জানাতে সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সেমিনারে বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-৫০ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা আছে, অভিযোজনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা থাকার পরও প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ভৌগোলিকভাবে নিম্ন সমতল ভূমিতে দেশের অবস্থান হওয়ায় সৃষ্ট অন্যান্য বিপন্নতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যম দৃশ্যপটে প্রতিবছর জিডিপির ১.১ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা চরমভাবাপন্ন দৃশ্যপটে ২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং তা সার্বিকভাবে খাদ্য, পুষ্টি এবং জীবিকার নিরাপত্তাকে ব্যাহত করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন নজিরবিহীন সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলায় অভিযোজনের জন্য বর্তমানে দেশের অর্থের জোগানের ধারা সে তুলনায় নিতান্তই নগণ্য ও অপর্যাপ্ত। যা ভবিষ্যতে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগাড় ও ব্যয় করা কষ্টসাধ্য হবে। পরিকল্পিত উপায়ে অভিযোজনের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্দশা থেকে দেশের উত্তরণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত বর্ধিত জলবায়ু অর্থায়ন সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ জরুরি।
সেমিনারে পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ’জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ লক্ষ্যে সমন্বিত পানিসম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হতে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ের তথ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ’জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর সঙ্গে যদি গণমাধ্যম আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সাফল্য অর্জন করতে পারবে।’
সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্টস ফোরামের মহাসচিব আসাদুজ্জামান সম্রাট, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ আলী। এ ছাড়া সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তরসমূহ, বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ। সেমিনার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক (সংযুক্ত) তানিয়া খান।