× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদ্যুতে দুর্ভোগ

শিডিউল লোডশেডিংয়ে ফিরতে চায় না সরকার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৩ ২১:৩৭ পিএম

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩ ০১:৫০ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় দেশে লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৮১ মেগাওয়াট। একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪ মেগাওয়াট। গত তিন মাসে এটিই সর্বোচ্চ লোডশেডিং।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এই তথ্য জানিয়েছে।

পিজিসিবির হিসাব মতে, রবিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ঘণ্টাপ্রতি ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি। দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট আর উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৯৮৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৩ মেগাওয়াট।

সরকার এই তথ্য দিলেও সাধারণ মানুষ মনে করে প্রকৃত লোডশেডিং আরও দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বেশি হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে গত বছরের মতো এ বছরও সরকার শিডিউল লোডশেডিং দেবে এমন ভাবনা ছিল অনেকের। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিতরণে শিডিউল লোডশেডিংয়ে ফিরতে রাজি নয় তারা। গত বছর জ্বালানি সংকটের কথা বলে রোজ দুই ঘণ্টার লোডশেডিং দিয়েছিল সরকার। 

বিতরণ কোম্পানিগুলো শিডিউল লোডশেডিং নিশ্চিত না করায় কোথায় কখন বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে, তা বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় রবিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের ব্রিফিংয়ে লোডশেডিংয়ে শিডিউল করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’সরকার এ বিষয়ে এখন চিন্তা করছে না।’ 

পিজিসিবি যে ঘাটতি দেখায়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডেরই (আরইবি) সেই পরিমাণ সংকট থাকে। সরকারের ‘ভাবমূর্তির’ কথা চিন্তা করে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম দেখাতে চাহিদা কমিয়ে দেখানো হয় বলে মনে করেন ভোক্তারা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ’দেশের কোন এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন ভালো এটি আলাদা করে বলা সম্ভব নয়। এখন সব জায়গার পরিস্থিতি একই রকম। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের অবস্থা খারাপ। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে ঢাকাকে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। সেই হিসাবে একেবারে তৃণমূলে বিদ্যুতের কী অবস্থা, সেটা বোঝা খুব কঠিন কাজ নয়।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অসহনীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সরকার স্রেফ বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। 

রবিবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ’বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের অসহনীয় দুর্ভোগ কমে আসবে।’

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৭ বা ৮ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু টেকনাফ অতিক্রম করবে। এর এক বা দুই দিন পর কুমিল্লা ও ঢাকা অঞ্চল অতিক্রম করার সময় ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। এতে তীব্র তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তাপমাত্রা কমলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। এতে উৎপাদন না বাড়ালেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘অনেক কেন্দ্রে অর্ধেক উৎপাদন করা যায়। আশা করি, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তাপপ্রবাহ চলায় চাহিদা বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানির জোগান দেওয়া কঠিন হওয়াতে বেশ কিছু দিন ধরে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি যে অসহনীয় তা আমরা জানি। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পায়রার জন্য যত তাড়াতাড়ি কয়লা আনা যায় সেই চেষ্টা করছি।’

গত বছরের মতো শিডিউল লোডশেডিং করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিডিউল লোডশেডিংয়ে যাওয়ার আপাতত চিন্তা নেই। এখন প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’দুই মাস আগে থেকে আমরা জ্বালানি এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলাম। বিষয়টি অর্থনৈতিক। ঋণপত্র খোলার মতো বিষয় থাকে। সবকিছু সমন্বয় করতে হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। সমন্বয়ে কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই সমস্যা হয়। এবারও তাই হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা