প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চালু হচ্ছে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চিলাহাটি এক্সপ্রেস। রবিবার (৪ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ ট্রেনের যাত্রা উদ্ধোধন করবেন। এ সময় চিলাহাটি রেলস্টেশনে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-কুড়িগ্রাম, ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে একাধিক ট্রেন চলছে কিন্তু ৩৮৩ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলে একটি মাত্র ট্রেন। এ এলাকার যাত্রীরা ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আরও একটি ট্রেন চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাই এ নতুন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
নতুন আমদানি করা চাইনিজ কোচ দিয়ে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি চিলাহাটি ছাড়বে প্রতিদিন ভোর ৬টায়। ঢাকায় পৌঁছবে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে। ঢাকা ছাড়বে বিকাল ৫টায় আর চিলাহাটি পৌঁছবে মধ্যরাত ৩টায়। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শনিবার। ১২ বগিবিশিষ্ট ট্রেনটিতে শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি বার্থসহ আসন থাকবে ৭৯২টি ।
ট্রেনটি ঢাকা থেকে চিলাহাটি ও চিলাহাটি থেকে ঢাকা উভয়পথে ডোমার, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, জয়পুরহাট, সান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী বাইপাস, জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
বর্তমানে ঢাকা-চিলাহাটি ঢাকা রুটে নীলসাগর এক্সপ্রেস নামে আরও একটি ট্রেন চলছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য নীলসাগর এক্সপ্রেস নামে একটি নৈশকালীন ট্রেন চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রেলপথের অবস্থা খারাপ থাকায় ও যাত্রীসেবা দেওয়ার মতো অবকাঠামো না থাকায় শুরুতে এ ট্রেনটি ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত চলাচল করত।
২০১৫ সালে এ রেলপথ সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের পর চিলাহাটি পর্যন্ত চলাচল শুরু করে। কিন্তু ট্রেনটি চালু করার পর স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ হলেও রাত্রিকালীন ট্রেন হওয়ায় এর সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এ ছাড়া ট্রেনের আসন সংখ্যা কম হওয়ায় এই রুটের যাত্রীদের ভোগান্তিতেও পড়তে হতো। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় এই রুটে দিবাকালীন একটি ট্রেন চলাচলের দাবি ছিল এ জেলার মানুষের।
এদিকে, নতুন ট্রেনটির নাম ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নীলফামারীর বাসিন্দারা। যদিও সরকার ট্রেনটির নাম রেখেছে চিলহাটি এক্সপ্রেস। এ ছাড়া তারা ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দের দাবি জানান।