প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ১৯:১৯ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৩ ১৯:৩৯ পিএম
ভিয়েনা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার দায়ে পাকিস্তানি সেনাদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ভবন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ মে) বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘বিশ শতকের প্রেক্ষাপটে একাত্তরের গণহত্যা ও বিচার আন্দোলন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
শাহরিয়ার কবির সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ’ভিয়েনা কনভেনশনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, বহু অপরাধ ক্ষমা করা যায় না, তার মধ্যে একটি গণহত্যা। ভিয়েনা কনভেনশনের ওই ধারাতেই একাত্তরে গণহত্যার দায়ে পাকিস্তানিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। আন্তর্জাতিক আইনের ধারায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে বাধা নেই। এ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে যে গণহত্যা চলছে তা নিরুৎসাহিত হবে।’
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি গণহত্যায় শহীদদের তালিকা দেখাতে বলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ইতিহাস নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা বন্ধ করতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি বিচারপতি মো. গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ইতিহাস অস্বীকার অপরাধ আইন’-এর খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনে জমা দিয়েছিলাম। সে আইন প্রণয়নের দাবি জানাই। পাশাপাশি ব্যক্তি অপরাধের পাশাপাশি সাংগঠনিক পর্যায়ের অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আবেদনও করছি আমরা। যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।’
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ’সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাতে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে বেগ পেতে হবে। পাশাপাশি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে রায়গুলো দিয়েছেন, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত। সেসব রায় ও পর্যবেক্ষণের অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিলে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতেও সহায়ক হবে।’