প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১১:১৪ এএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৩ ১৫:২১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি
ব্লিঙ্কেনের ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়। যে বিজ্ঞপ্তিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করা হয়েছে।
ব্লিঙ্কেনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকারের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। ভোট কারচুপির মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট কেড়ে নিয়ে কোনো সরকারের ক্ষমতায় থাকার নজির নেই। জনগণের ভোটাধিকারকে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় পবিত্রতা বলে মনে করে। কারণ ভোটাধিকার আদায়ের জন্য দলটির নিরলস সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া সরকার সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও বৈধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সমাবেশ করার স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যেকোনো ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বা হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া। সরকার আশা করে, স্থানীয় অগণতান্ত্রিক শক্তি যারা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তারা এ কাজে বিরত থাকবে এবং সংবিধানের নির্দেশিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশে উন্নয়ন অর্জনকে টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণভাবে
বাংলাদেশের জনগণের ওপর নির্ভর করে। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর টেকসই অঙ্গীকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থানের
প্রশংসা করে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি
গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং সরকারের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে
নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
জাতীয় নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন
পূর্ণ স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে তার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য সজ্জিত।
বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের সব নির্বাহী যন্ত্রের ওপর
নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব আইন করে নিশ্চিত করেছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএস ইমিগ্রেশন ও অ্যাক্টের অধীনে
৩সি বিধান অনুসারে ভিসা সীমাবদ্ধতার যে নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা
করেছেন তা নোট করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার,
সর্বস্তরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারের দ্ব্যর্থহীন অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এ ঘোষণাকে দেখতে চায়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি, ভোট কারচুপির সঙ্গে সংশ্লষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ দেওয়া হবে। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কর্মরত বা সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকারি দল বা বিরোধী দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা পরিষেবার সদস্য।’
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ
ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করছি। এ নীতি অনুসারে যদি কোনো
ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত
করে তবে জড়িতদের ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।’
গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে
এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয়
দেখানো, সহিংসতার মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা
এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারে বাধা দেওয়া এবং নানা প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল,
ভোটার, সুশীলসমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের
মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখা।