ইয়ুথ কপে গ্রেটা থুনবার্গ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:৪৯ এএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৬ পিএম
সোমবার রাতে বিভিন্ন দেশের তরুণদের নিয়ে জলবায়ু সম্মেলন (ইয়ুথ কপ) অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : প্রবা
ক্ষমতাধররাই বিশ্বকে ধ্বংস করছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং যুব আইকন গ্রেটা থুনবার্গ।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন দেশের তরুণদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে (ইয়ুথ কপ) তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একশন এইড বাংলাদেশ ও ব্রাইটারস সোসাইটি।
গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, ‘বিশ্বের ক্ষমতাধররাই এটিকে ধ্বংস করছে। গ্লোবাল নর্থের দেশগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু নিরপেক্ষ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সীমিত। তারা উদ্যোগী হলে কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে নিঃসরণ কমিয়ে দিত। কিন্তু তারা উদ্যোগী নন। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মন্থর গতিতে বাস্তবায়ন করছে নিজেদের সুবিধা, ব্যবসা এবং অতিরিক্ত মুনাফার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আজকের মতো চলতে থাকি, তাহলে কপ-২৭ সম্মেলন তাদের জন্য বিশ্বকে দূষিত করার আরেকটি সুযোগ হবে। আমরা এটি আরও একবার ঘটতে দিতে পারি না।’
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন আগামী ৬-১৮ নভেম্বর মিসরে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রাক্কালে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে থাকে এই ইয়ুথ কপের মাধ্যমে।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখা, জীবাশ্ম পোড়ানো বন্ধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান, সেই দায়িত্ব উন্নত দেশের বাসিন্দাদের গ্রহণ, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং অভিযোজনের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করাসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
ইয়ুথ কপে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে জান্নাতুল মাওয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও বিশুদ্ধ পানির সংকট বেড়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীরা। নারীর জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হলে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটি বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত।’
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী জিন লুইসও উপস্থিত ছিলেন তরুণদের এই সম্মেলনে।
তিনি বলেন, আমরা যখন কথা বলছি তখনও জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। প্রশমন এবং খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রচুর পরিকল্পনা এবং জায়গা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তরুণদের কণ্ঠস্বর যেন প্রতিফলিত ও সমন্বিত হয় । এখন আলোচনার চেয়ে পদক্ষেপ জরুরি। আমাদের জলবায়ু সমস্যা সম্পর্কে অবশ্যই তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডক্টর আইনুন নিশাত বলেন, ‘৩০ বছর পরে হয়তো আমরা এখানে থাকব না। এর ফল ভোগ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। সঠিক দিক ও পরিধিতে কাজ করার জন্য তরুণদের সমস্যাটি বুঝতে হবে।’
একশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া এবং আকস্মিক জলবায়ু পরিবর্তন তরুণদের ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাই তরুণরা বুঝতে চায় কী ঘটছে, কীভাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারে এবং কীভাবে তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের উদ্বেগগুলো কপ-২৭ সম্মেলনে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে ইয়ুথ কপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।’
ইয়ুথ কপে অন্যান্য বিশেষজ্ঞের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ-এর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রোগ্রাম পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জিয়াউল হাসান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/আরএম/এমজে