প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ২০:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ চেয়েছে নেপাল। বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভায় নেপালের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মে) পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বাংলাদেশ-নেপাল স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ভারতের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এমন কোম্পানি নেপালে বিনিয়োগ করছে। ভারতীয় কোম্পানি জিএমআরের নির্মাণাধীন এমন একটি কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ। চাইলে বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা একইভাবে নেপালে বিনিয়োগ করতে পারেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ’নেপালের বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও সেচ সচিব দীনেশ কুমার ঘিমির এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছেন। ঘিমির বলেছেন, বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ খাতে ভালো কাজ করছেন। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিনিয়োগকারীদের নেপালে পাঠাতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে আমরা সুযোগ করে দেব। বাংলাদেশ সেখান থেকে বিদ্যুৎ কিনে আনতে পারে।’
জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও দীনেশ কুমার ঘিমির নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ভারতের ওপর দিয়ে বর্তমান আন্তঃসংযোগ গ্রিডলাইন ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নতুন সঞ্চালন লাইনের অংশবিশেষ ভারতের ভূখণ্ডে নির্মিত হবে। এ কারণে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণ হবে বলে সভায় মতপ্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগের লক্ষ্যে আন্তঃদেশীয় ডেডিকেটেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়েও পর্যালোচনা হয়। ভারতের জিএমআর গ্রুপ নেপালে যে ৯০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তা থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানির চুক্তি স্বাক্ষর নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তি সই করার দিন নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বাংলাদেশ ও নেপালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় পর্যালোচনা হয়। বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম কার্যক্রম ও নেট মিটারিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয় সভায়। বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মতি প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিপিএমআইয়ের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার বিবরণ তুলে ধরা হয়। দ্বিপক্ষীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পঞ্চম সভা এর আগের দিন ১৫ মে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির পরবর্তী সভা আগামী নভেম্বর নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।