প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ২২:৫২ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ২৩:২৯ পিএম
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও নায্যতাভিত্তিক বাজেট : অংশীজনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। প্রবা ফটো
স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমাতে অভিন্ন ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মধ্যে বৈষম্য অনুভব না করে সেজন্য আমরা স্কুলের শিশুদের ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। শিশুরা যেন নিজেদের মধ্যে সমতা অনুভব করে বিকশিত হতে পারে। এ ছাড়া স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল ফের চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
রবিবার (১৪ মে) বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও নায্যতাভিত্তিক বাজেট : অংশীজনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে ৫০০ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার উপ-পরিচালক কে. এম. এনামুল হক। এডুকেশন ওয়াচের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধে তিনি বৈশ্বিক প্রবণতার তুলনায় দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের অনুপাত তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, ‘আজকের এই আলোচনা সভাটা আমরা দাবিদাওয়া আদায়ের একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। আমাদের দাবি, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। শিক্ষায় নায্যতাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ চাই। শিক্ষার জন্য সরকার যে পরিমাণ ব্যয় করছে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হয় পরিবারকে।’
শান্তিতে নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাই ফান্ডের প্রতিনিধি মোশারফ তানসেন বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৬ শতাংশ বাজেট শিক্ষা ক্ষেত্রে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। হাতে মাত্র ৬-৭ বছর অথচ বরাদ্দ ২ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে এ অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে ৬ শতাংশ হবে? এ সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে।’
সভায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আমরা উন্নত দেশের পথে যাচ্ছি। কিন্তু শিক্ষার জন্য আমাদের সে ধরনের পরিকল্পনা নেই। মাধ্যমিকের পরিকল্পনা কই? আমাদের এ জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ক্লাব চালুর কথা জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ক্লাব চালু করব। শিক্ষার্থীদের এসব ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।’
আলোচনা সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশত প্রতিনিধি অংশ নেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন।