প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ১৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
রাজধানীতে বন অধিদপ্তরের কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনসহ অন্য অতিথিরা
দেশে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো এক হাজার উদ্ভিদের তালিকা করেছে সরকার। এরমধ্যে ৩৯৪টি প্রজাতি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। রবিবার (১৪ মে) রাজধানীতে এক কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফাইনাল ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপ অন ন্যাশনাল রেড লিস্ট অব প্ল্যান্টস শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বন অধিদপ্তর।
মন্ত্রী বলেন, লাল তালিকা মূল্যায়নের ফলাফল অনুযায়ী এক হাজারটি উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে আটটি প্রাথমিকভাবে বিলুপ্ত, পাঁচটি মহাবিপন্ন, ১২৭টি বিপদাপন্ন, ২৬২টি সংকটাপন্ন, ৬৯টি প্রায় সংকটাপন্ন এবং ২৭১টিকে ন্যূনতম উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫৮টি উদ্ভিদ প্রজাতির তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
দেশের বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মহাবিপন্ন বাঁশপাতা, ট্রায়াস অর্কিড, চালমুগড়া, বামন খেজুর উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অন্যান্য বিপন্ন উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সংকটাপন্ন উদ্ভিদগুলোকে বনায়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, সংকটাপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও প্রবিধানমালার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো কাজ করলে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশ পৃথিবীতে রোল মডেল হিসেবে স্থান করে নেবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব ডক্টর ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের পরিচালক সঞ্জয় কুমার ভৌমিক প্রমুখ। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সুফল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমীন প্রমুখ। চূড়ান্ত ফলাফলসহ মূল প্রবন্ধ যৌথভাবে উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. ওলিউর রহমান এবং অধ্যাপক ড. সালেহ আহমদ খান।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, বিশ্ব ব্যাংক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।