প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:০০ এএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৬ এএম
মিয়ানমার জান্তার ক্ষমতায় টিকে থাকতে উসকানি
প্রায় এক মাস ধরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনী সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানের সময় মিয়ানমার বাহিনীর কামানের গোলা বারবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়ছে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু নোম্যানস ল্যান্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে ইকবাল নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হন।
এ ছাড়া ওই ঘটনায় এক শিশুসহ পাঁচ রোহিঙ্গা নাগরিক আহত হন। একই দিন বিকালে আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিক শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।
সীমান্তে প্রাণহানি এবং একের পর এক এমন ঘটনাকে যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছেন দেশের কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশটিতে গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর জেরবার অবস্থা, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে জান্তাপ্রধানের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। এক রাশিয়া ও চীন ছাড়া কোথাও বন্ধু খুঁজে পাচ্ছেন না জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।
তারা আরও বলেছেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটির সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে চরম অর্থনৈতিক সংকটে অভ্যন্তরীণভাবেও বেশ বেকায়দায় পড়েছে সেনা সরকার। আর এ কারণে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে একটি যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে তারা। নানা সমীকরণে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে উপযুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র বলে মনে করছে দেশটির ফৌজি সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার সময়ে মিয়ানমারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে অং সান সু চির সরকারকে। এরপর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটিতে ডলারের মূল্য বেড়ে যায়। ফলে আরেক দফা নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে দেশটিতে পণ্যমূল্য হয় আকাশচুম্বী। এতে ফুঁসে উঠেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে যেকোনো উপায়ে অভ্যন্তরীণ বড় সংঘাত বা অন্য দেশের সঙ্গে একটি যুদ্ধ চাচ্ছে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা। এরই মধ্যে দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যাতে শত শত সেনা নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মিয়ানমারের সীমান্ত প্রতিবেশী রয়েছে পাঁচটি দেশ। এগুলো হলো--চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওস ও বাংলাদেশ। চীন জান্তা সরকারের অন্যতম বন্ধু; তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই বিবাদে জড়াবে না দেশটি। মিয়ানমারের মতোই লাওস ও থাইল্যান্ড বৌদ্ধপ্রধান। ফলে তাদের সঙ্গেও কোনো বিরোধ চায় না। বৃহৎ শক্তি ভারতের বিরুদ্ধেও কোনো শক্ত মনোভাব নেই দেশটির বেশির ভাগ জনগণের। ফলে ভারতের সঙ্গেও যুদ্ধে জড়িয়ে লাভ নেই মিয়ানমারের। বাকি থাকে শুধু বাংলাদেশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মধ্যে মুসলিমবিরোধী কঠোর মনোভাব রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি। বাংলাদেশিরা তাদের দেশে বহিরাগত। ফলে সেখানে বাংলাদেশ ও মুসলিমবিরোধী কার্ড খেলতে চাচ্ছে জান্তা সরকার। এখন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে সক্ষম হলে জান্তা সরকার সাধারণ মানুষকে বোঝাবে--এ মুহূর্তে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় থাকা খুবই প্রয়োজন। আর এ কারণেই হয়তো বাংলাদেশকে ক্রমাগত উসকানি দিচ্ছে তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিন অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। এমনকি রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে তারা সহযোগী ছিল সেনাদের। তবে এ মুহূর্তে সমর্থন একেবারেই তলানিতে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বৌদ্ধদেরও অসন্তোষ বেড়েছে। কারণ জান্তা সরকার দেশটির জনগণকে স্বাভাবিক জীবন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কার্যত ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে মিয়ানমার।
করোনা মহামারি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মিয়ানমারকে বেশ ভালোভাবেই সংকটে ফেলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দারিদ্র্য ৪২ শতাংশের ওপর ঠেকেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে মাদকের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জান্তা সরকার মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর খরচ মেটাতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এতে মিয়ানমার সরকারের তিনটি লাভ রয়েছে। একটি হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি থেকে নজর সরিয়ে যুদ্ধের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করা। দ্বিতীয়টি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। এটাকে মিয়ানমার বোঝা মনে করে। সংঘাত হলে প্রত্যাবাসন আটকে যাবে। তৃতীয় বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধ লাগলে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে শুরু করে অন্যান্য স্থানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যতটুকু এগিয়ে ছিল, তা সব আটকে যাবে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতিও এখন দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। তা ছাড়া বাংলাদেশের সামনে জাতীয় নির্বাচন। আর এ কারণে এ সময়কেই বেছে নিয়েছে জান্তা।
ঢাকায় কর্মরত পশ্চিমা একটি দেশের দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। মিয়ানমারে থাকা মিশন থেকে আমাদের হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, বাংলাদেশের ভেতর থেকে বিদ্রোহীরা মিয়ানমারে গিয়ে সহিংসতা করে আবার বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে।’
মিয়ানমারের এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ করে আসছে। তবে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার--অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের জন্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বার্তাই তাদের একাধিকবার দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের অভিযোগের পর সীমান্তে বাংলাদেশের নজরদারি ও পাহারাও জোরদার করা হয়েছে।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার অভ্যন্তরীণভাবেও প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে জান্তা সরকার সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আস্থা আর বর্তমানে জান্তার ওপর নেই।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের উসকানি বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবেই মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কারণ দেশটিতে একটি গৃহযুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটে বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্বের নৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ঢাকা। তাই তাদের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে দৃষ্টিটা অন্যদিকে চলে যাবে। আর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অংশীদার হলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিকভাবে যে কার্যক্রম বাংলাদেশ চালাচ্ছে, সেটিই অব্যাহত রাখা উচিত। সরকার দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং চীন ও ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সাহায্য নিতে পারে, যাতে এ অবস্থা আরও খারাপ না হয়। এগুলো কোনো কিছুই কাজ না করলে পরে হয়তো অন্য কোনো ব্যবস্থা চিন্তা করা যাবে। তবে তিনি বলেন, মিয়ানমার এ আচরণ বজায় রাখলে বাংলাদেশও জবাব দিতে প্রস্তুত বলে বার্তাও পৌঁছে দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য : বাংলাদেশ সীমান্তে একের পর এক গোলাবর্ষণ ও মিয়ানমারের উসকানির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যুদ্ধ চায় না। বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায়। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের সীমানায় এসে যে গোলাবারুদ পড়ছে, এটার কড়া ভাষায় আমরা প্রতিবাদ করছি। ওদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সুস্পষ্টভাবে আমাদের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনোই যুদ্ধ চান না, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান। তাদের যে ইন্টারনাল কনফ্লিক্ট (অভ্যন্তরীণ সংঘাত), সেটা তাদের সীমানার ভেতরেই থাকুক। বাইরে যেটা আসছে, সেটার সব সময় প্রতিবাদ করে আসছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছি। শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে না হয় জাতিসংঘের কাছে তুলব। আমরা সবকিছু করব।’
বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় মিয়ানমারের কথা দিয়ে কথা না রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কোনো সময়ই কথা দিয়ে কথা রাখে না। আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়--সব চেষ্টাই করে যাচ্ছি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আবারও কড়া প্রতিবাদ
বাংলাদেশ সীমান্তে গোলাবর্ষণ এবং একজন নিহত ও ছয়জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো কথা বলতে চায় না। কিন্তু মিয়ানমারের গোলায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আর যেন কোনো প্রাণহানি না হয় তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে চতুর্থবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে।
গতকাল সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে। বেলা ১১টায় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হন। এরপর তাকে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নাজমুল হুদার দপ্তরে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ সীমানার ভেতরে মিয়ানমার বাহিনীর গোলাবর্ষণের ব্যাপারে কঠোর প্রতিবাদ সংবলিত চিঠি হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিকামী রাষ্ট্র। এ কারণে বাংলাদেশ ধৈর্য ধরে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও তা সহ্য করে যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আর যেন কোনো প্রাণহানি না হয় তা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে।
খুরশেদ আলম আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে নিয়ে। বিজিবি এবং কোস্ট গার্ডকে সীমান্তে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। সাগর দিয়ে রোহিঙ্গারা যেন ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছে।’
বারবার প্রতিবাদ জানানোর পরও মিয়ানমার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে কূটনৈতিক ভাষায় যেভাবে, যতটুকু প্রতিবাদ জানানো হয়, বাংলাদেশ সেটাই জানিয়েছে। বাংলাদেশের বক্তব্যে কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। একই সঙ্গে আসিয়ান রাষ্ট্রদূতদের এ বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বারবার বলার পরও মিয়ানমার কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা আসিয়ান দেশভুক্ত রাষ্ট্রদূতদের জানিয়ে ভবিষ্যতে মিয়ানমারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে।