প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:২৯ পিএম
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ছিল বীরত্বপূর্ণ।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ শীর্ষক গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যতদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা হবে, ততদিন পুলিশের বীরত্বগাথা উচ্চারিত হবে।
ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, গত শতকে দুটি ঘটনা ঘটে গেছে, যা চার হাজার বছরের গতিপথ পাল্টে দেয়। তা হলো--বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাব ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধ বীরত্বগাথা রয়ে যাবে। সেই যুদ্ধ পুলিশের যে বীরত্বগাথা ছিল তা এই গ্রন্থের নমুনা মাত্র।
আইজিপি বলেন, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আমরা ৩০ বছর গণতন্ত্রের দেখা পাইনি। এই সময় স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা দেখেছি।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পুলিশের ছায়ার মতো সংযোগ ছিল দাবি করে পুলিশ প্রধান বলেন, এখন অনেক সত্য ইতিহাস বেরিয়ে আসছে। বাঙালি পুলিশ শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল। সভা সমিতি করার ব্যবস্থা করেছে বাঙালি পুলিশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতেও তা উঠে এসেছে।
রাজারবাগে প্রতিনিয়ত বাঙালি-অবাঙালি পুলিশের মধ্যে ঝগড়া হতো। বাঙালি পুলিশ সবসময় বঞ্চনা সয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধিকার আন্দোলনের শুরু থেকে একাত্ম ছিল পুলিশ। কারণ সরকারি চাকরি সূত্রে পুলিশ বঞ্চনাটা কী, তা বুঝতে পেত।
মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর মহকুমা পুলিশ লাইনে ছাত্রসহ সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ অস্ত্র বিতরণ করেছে। যুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বেই পুলিশ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ১৪ হাজার পুলিশ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধে প্রাক প্রস্তুতি বা গণভিত্তি পেতে বেশি সময় লাগেনি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের বীরত্বগাথা নিয়ে অনেক আগেই কাজ শুরু হয়েছে। ডকুমেন্টারি হয়েছে। বই লেখা হয়েছে। ৬৪ জেলায় মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরতে আমরা আলাদা প্রকল্প নেব। যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা আলাদা করে প্রকাশ করব। এখন অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা পুলিশের গর্বের জায়গাগুলো, প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ করতে চাই।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ গ্রন্থের সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে ঘোষণা, তা প্রথম প্রতিপালন করেছে পুলিশ। প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ করেছে পুলিশই। মুক্তিযুদ্ধ যে শুরু হয়েছে, সেটার জবাবও পুলিশ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মেসেজ পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রকার ও ভাস্কর রেডিও শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী।
আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান।
প্রবা/আরএম/এমজে