আজ এনইসিতে উঠছে এডিপি
এম আর মাসফি
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ০৯:২৬ এএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
ফাইল ফটো
নতুন অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এডিপিতে বরাদ্দ প্রস্তাবে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এডিপি বৃহস্পতিবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন এনইসি চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত নতুন এডিপির মধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় করা হবে। আর ৯৪ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা দেবে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে
এবারের প্রস্তাবিত এডিপি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারি ব্যয় ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা; এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা দেবে ৩১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এ খাতে বরাদ্দের সবচেয়ে বেশি অংশ পাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৪৭৩ কোটি, সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৬৪ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি টাকা প্রস্তাব করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা, কৃষি , পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য।
এবারও বেশি গুরুত্ব মেগা প্রকল্পে
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য বেশি বরাদ্দ প্রস্তাবের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এবারও মেগা প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুতে বড় বরাদ্দ থাকছে।
তারা জানান, কর্ণফুলি টানেল, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, যমুনা রেল সেতু ও দোহাজারী-কক্সবাজারের মতো যোগাযোগ এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অবকাঠামোর মতো বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। চলমান বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ এডিপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ সাবওয়ের (এমআরটি-১) নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হবে আগামী বছর। পাশাপাশি মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের কাজেও গতি আসবে। এ ছাড়া হযরত শাহজালান বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মতো বড় ব্যয়ের প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজে আরও গতি বাড়বে।
জ্বালানি ব্যয় মূলত উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে
এডিপিতে বেশি বরাদ্দ পাওয়ায় পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের পরেই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এ খাতের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ খাতের বেশিরভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।
এডিপিতে তৃতীয় অবস্থানে শিক্ষা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরেই রয়েছে শিক্ষা খাত। শিক্ষা অবকাঠামো ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগামী এডিপিতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ যা সবগুলো খাতের এডিপির মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ।
অন্যান্য খাতের চালচিত্র
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য ১৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলির জন্য ২৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার ২০৪ কোটি, কৃষিতে ১০ হাজার ৭০৭ কোটি, পরিবেশ , জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদের জন্য ৮ হাজার ৯৯৫ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৫ হাজার ৩৬২ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ৩ হাজার ৪৩৬ কোটি, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে ৫ হাজার ৩২১ কোটি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদনে ২ হাজার ২৯০ কোটি, সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কম ও বেশি বরাদ্দ যেসব খাতে
আগামী অর্থবছর সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাচ্ছে প্রতিরক্ষা খাত। এ খাতের বরাদ্দ ১ হাজার ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বেশি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; এ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ১২ হাজার ১৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পেয়েছে ১৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পেয়েছে ১২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা আর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পেয়েছে ১২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের নতুন প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার ৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এডিপিতে।

এডিপিতে বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের জন্য রাখা হয়েছে ৭৩৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, এমআরটি লাইন-৬-এর জন্য ৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ও এমআরটি-১-এর জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি এমআরটি-৫-এর জন্য ৮৮০ কোটি টাকা, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেল প্রকল্পে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ৫ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ও ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।