প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৩ ২৩:৪৭ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১৩:৪৩ পিএম
চলমান বৈশ্বিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক সংকটের ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আগামী বাজেটে দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মজীবীর জন্য মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা আসতে পারে। শতাংশ হারে তা কত হবে এ নিয়ে এখনও সিদ্বান্ত হয়নি। তবে তা ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
বুধবার (১০ মে) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের জন্য আয়-ব্যয়ের খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন সংক্রান্ত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি কর্মজীবীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর অর্থ বিভাগের পক্ষে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট প্রসঙ্গে একটি প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের সচিব শরিফা খানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আগামী বাজেট নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, আলোচ্য সূচিতে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি ছিল না। তবে অনির্ধারিত আলোচনায় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বৈশ্বিক মন্দা, করোনা এবং অর্থনৈতিক সংকটেও আমরা অনেক ভালো করছি। সব সময় আমরা সংকটকে সম্ভাবনা মনে করি। যেকোনো সংকটে আমাদের সম্ভবনার দার খুলে যায়। চলমান সংকটে আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণমুখী বাজেট আমরা দেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থবিভাগ থেকে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি বিভিন্ন শতাংশে কত খরচ হবে তার একটি হিসাব করা হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৭৫ হাজার ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৭ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট থেকে তাদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দের কথা ভাবা হচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা।
সূত্রটি জানায়, মহার্ঘ ভাতা ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৪ হাজার কোটি, ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি এবং ২০ শতাংশ দেওয়া হলে ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় যোগ হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৫ শতাংশ। সামাজিক সুরক্ষায় থাকছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। ৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি থাকছে। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটের চেয়ে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৭ শতাংশ বাড়িয়ে আগামী বাজেটে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হচ্ছে। চলতি এডিপির আকার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের মানুষের আয় কমলেও বেড়েছে ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে স্বস্তি দিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যতটা সম্ভব মানুষকে সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। নির্বাচন সামনে রেখে এর আওতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আপাতত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা আসতে পারে বাজেটে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। এতে করে আসছে বাজেটে করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়বে। করের আওতা বাড়ানো হবে। করের হার খুব একটা বাড়ানো হবে না। কেননা মানুষ এমনিতেই কষ্টে আছে। অবশ্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে একাধিকবার। আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা আসবে যে কোনো সময়।