পরীক্ষা হবে না প্রথম শ্রেণিতে
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৩ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৩ ২১:০৪ পিএম
মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ভবন। সংগৃহীত ছবি
এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় মাধ্যমিকের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক মূল্যায়ন, পরীক্ষা ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ৩১ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক শ্রেণি কার্যক্রম এবং ৮ম ১০ম শ্রেণির জন্য স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
অন্যদিকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো প্রান্তিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আর প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে কোনো মূল্যায়নই হবে না।
বুধবার (১০ মে) মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী যে সব বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে সে সব বিদ্যালয়ে ৩১ মে পর্যন্ত পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ অনুযায়ী অর্ধবার্ষিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অর্ধবার্ষিক মূলায়নে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ের কাঙ্খিত যোগ্যতার মূল্যায়ন প্রচলিত পেপার-পেন্সিল পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভব নয়। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষার্থী মূল্যায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজ, এসাইনমেন্ট, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, অনুসন্ধানমূলক কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন এনসিটিবি থেকে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে প্রেরণ করা হবে। অর্ধবার্ষিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষার্থী মূলায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী ৫ কর্মদিবস প্রস্তুতিমূলক শ্রেণি কার্যক্রম ও ১০টি বিষয়ের জন্য ১০ কর্মদিবস অর্ধবার্ষিক মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন। তাই অর্ধবার্ষিক মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক শ্রেণি কার্যক্রম ও অর্ধবার্ষিক মূল্যায়ন/পরীক্ষা/প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা নিম্নবর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।
প্রথম শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা হবে না
প্রথম শ্রেণিতে কোনো প্রান্তিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে না। আর প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে কোনো মূল্যায়নই হবে না। এছাড়াও দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে কোভিড পরিস্থিতির অব্যবহিত পূর্বের নিয়মানুযায়ী মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মূল্যায়নের বিষয়ে এমন সাতটি নির্দেশনা দিয়ে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) মনীষ চাকমার সইয়ে এ নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়।
নির্দেশনায় আরও হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্ষপঞ্জি ২০২৩-এ উল্লিখিত মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রান্তিকের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার রুটিন প্রণয়ন করবেন। সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিষয় শিক্ষকের মাধ্যমে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগমূলক শিখনক্ষেত্র বিবেচনায় বিদ্যালয়/ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকগণের নিকট থেকে ফি গ্রহণ করা যাবে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটারে কম্পোজ করে ফটোকপি করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফটোকপি ও উত্তরপত্রসহ (খাতা) আনুষাঙ্গিক ব্যয় বিদ্যালয়ের আনুষাঙ্গিক খাত/স্লিপ ফাণ্ড থেকে নির্বাহ করতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কোনো মূল্যায়ন/পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম ২০২১ (প্রাথমিক স্তর) অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে কোনোরূপ প্রান্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের একটি নির্দেশিকা প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণির জন্য রচিত সকল শিক্ষক সহায়িকা সঙ্গে সংযুক্ত করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষকদের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি বিষয়ের উপর অর্জন উপযোগী যোগ্যতা ও শিখনফলের নম্বর উল্লেখপূর্বক শিক্ষক ডায়েরি-১ এবং শিক্ষক ডায়েরি-২ নামে ২টি ওয়ার্ড ও পিডিএফ ফাইল আপলোড করা আছে। সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ উক্ত ফাইল ডাউনলোড করে নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং প্রতি প্রান্তিকে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রদান করতে পারবেন।
গত জানুয়ারি থেকে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে তা শুরু হবে। এরপর ২০২৫ সালে চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে। উচ্চমাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে।