প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:০৩ পিএম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে। ছবি : সংগৃহীত
বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের গোলাবর্ষণের ঘটনায় রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারও তলব করা হয়েছে। এ নিয়ে এক মাসে চারবার তলব করা হলো তাকে।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে তলব করা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নাজমুল হুদা জানান।
গত শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টারের একাধিক গোলা রাখাইনের ওয়ালিডং পাহাড়ের পাদদেশের শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পড়ে। এতে মো. ইকবাল নামের এক রোহিঙ্গা কিশোরের প্রাণ যায়। আহত হন আশ্রয়শিবিরের পাঁচজন।
ওই দিন বেলা ৩টার দিকে তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে শূন্যরেখার ৩৫ নম্বর পিলারের কাছাকাছি জায়গায় গরু আনতে গেলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে অথোয়াইং তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামে বাংলাদেশি এক তরুণের বাঁ পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়। ঘুমধুম ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়ার বাসিন্দা ওই তরুণের চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শূন্যরেখায় আরও মাইন পোঁতা থাকতে পারে, এমন শঙ্কায় মাঠে যাচ্ছেন না কৃষকরা।
গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে রাখাইনের ওয়ালিডং পাহাড়ে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এ অবস্থা চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। পরে গোলাগুলির আওয়াজের তীব্রতা কমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা এ কথা জানান।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গোলা তুমব্রু বাজারের পাশে কোনারপাড়ার কৃষক শাহজাহানের বাড়ির আঙিনায় পড়ে। বাড়ির পাশেই শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এর আগেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা পড়ে। এসব ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় ঢাকা।
তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে শূন্যরেখায় ৫ বছর ধরে আশ্রয়শিবির তুলে বাস করছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। আশ্রয়শিবির ঘেঁষে (পেছনে) মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া ও রাখাইন রাজ্যের একাধিক পাহাড়।
প্রবা/রাই/টিকে/ এসআর