প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৩ ১১:১৪ এএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৩ ১৫:১৭ পিএম
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খান।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আজমত উল্লা খানের প্রার্থিতা কেন বাতিল করা হবে না, বিষয়টি নিয়ে তার ব্যাখ্যা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৪ মে) সন্ধ্যায় এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। গাজীপুর সিটিতে আচরণবিধি লঙ্ঘন দেখে কড়া হুঁশিয়ারির পর আবার একই ঘটনা ঘটায় ছুটির দিনে সভা ডাকে ইসি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজমত উল্লাকে আগামী ৭ মে বেলা ৩টায় ইসিতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে তার পক্ষে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আজমত উল্লা খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলকে আগেই সতর্ক করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিষয়টি জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেয় ইসি। একই সঙ্গে আজমত উল্লা খানকে ৭ মে ইসিতে তলব করা হয়। সতর্ক করার পর বৃহস্পতিবার (৪ মে) আবারও সভা করে আজমত উল্লার পক্ষে ভোট চান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান।
সাংবিধানিক সংস্থার প্রতি এমন উপেক্ষা দেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই জরুরি সভায় বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এতে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান, ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলীয় পর্যায়ে তাগাদা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি দেওয়ার পরও নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন। এ অবস্থায় জরিমানা, জেল, উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। পরের পদক্ষেপে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভা নিয়ে পাঠানো নিয়ে ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মেয়রপ্রার্থী আজমত উল্লা খানকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য ৩০ এপ্রিল ব্যাখ্যা তলব করা হয়। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (৪ মে) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল সভা করে আজমত উল্লার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। ওই সভায় আজমত উল্লাও উপস্থিত ছিলেন। এটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এই কার্যক্রম সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৫ এর পরিপন্থি। আচরণ বিধিমালার বিধি ৫ লঙ্ঘনের জন্য বিধি ৩২ অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।
আজমত উল্লা খানকে ইতঃপূর্বে সতর্ক করা সত্বেও প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনি প্রচার চালানোর ফলে আচরণবিধিমালার ৫ বিধি ভঙ্গের দায়ে কেন তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ৭ মে বিকাল ৩টায় ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান সভা করে আজমত উল্লার উপস্থিতিতে তার পক্ষে ভোট চেয়ে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য প্রতিমন্ত্রীকে সতর্ক করে তার একান্ত সচিবকে ইসির পক্ষে চিঠি দেওয়া হয়েছে।