প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২২ ২২:২৯ পিএম
রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন
রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, গত ঈদে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পেয়েছেন এমন মানুষ পাওয়া না গেলেও এবার এমন এক-দুজন পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
রেলযাত্রীদের সুবিধার্থে আজ শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে ৫০টি ট্রলি দেয় ইসলামী ব্যাংক। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ঈদ সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিটপ্রত্যাশীদের অনেকের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট পাওয়াই যাচ্ছে না। অনলাইনে না পেয়ে তারা রেলওয়ে স্টেশনে আসছেন।
অনলাইনে অগ্রিম টিকিট পাওয়া না যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘গতকালও আমরা টেলিভিশনে দেখলাম যে একজন বলছেন অনলাইনে টিকিট পেয়েছি, তাই এখানে এসে কষ্ট করতে হয়নি। গতবার কিন্তু এটা দেখা যায়নি। এবার কিন্তু এক-দুজন পাওয়া গেছে। রেসপন্স করছে।’
ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, এখন অনলাইনে নানা ধরনের প্রতারণা চলছে। কালোবাজারিরা অনেকগুলো সার্ভার নিয়ে আগেই হিট করছে। অনেক টিকিট তারা ডাউনলোড করছে। তারপর তারা বিক্রি করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
জবাবে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘জিনিসগুলো হচ্ছে, কোথা থেকে হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে—এই জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞতা দরকার। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। আমরা ত্রুটিগুলো ধরার চেষ্টা করব এবং আগামীতে যেন না হয়, সেই ব্যবস্থা করব।’
টিকিটের জন্য কেউ কেউ ৩০ ঘণ্টার বেশি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে থেকেও টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে প্রচণ্ড ভিড়। অনেকে অভিযোগ করছেন যে টিকিট পাচ্ছেন না। এটা স্বাভাবিক। অনলাইনের টিকিটের জন্য প্রায় ছয় কোটি মানুষ হিট করছে। আমাদের চাহিদার তুলনায় কমসংখ্যক পরিবহন সক্ষমতাই এর কারণ। কাজেই বিষয়গুলোকে আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, যেন ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারি।’
অবকাঠামো না বাড়িয়ে শুধু কোচ কিনে এই অবস্থার উন্নতি করা যাবে না বলেও মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাহিদা ও আমাদের যে সক্ষমতা, তার মধ্যে যে ফারাক তা যতক্ষণ পর্যন্ত কমাতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি থেকে খুব বেশি উত্তোরণ করতে পারব না।