প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ২২:২০ পিএম
দেশে তিন কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে এমন করদাতাদের ওপর বিদ্যমান সারচার্জ (করের ওপর কর) বাড়তে পারে। বর্তমানে তিন কোটি টাকার ওপরে সম্পদধারী ছাড়াও দুটি গাড়ি ও নির্দিষ্ট পরিমাণের অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের করের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ রয়েছে। এখন ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের নেতৃত্বে বাজেটসংশ্লিষ্ট ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (২ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তারা আগামী বাজেটে অর্থবিলের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে আলোচ্য সারচার্জের বিষয়টিও ছিল। অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে এই প্রস্তাব আগামী বাজেট প্রস্তাবে আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা বলছেন, এটি যদি বাড়ানো হয় তা আয় ও সম্পদবৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে সাহায্য করবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিকই আছে।
তারা আরও বলেছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, দেশে আয় ও সম্পদবৈষম্য বাড়ছে। ইক্যুইটিতে কনসেন্ট্রেশন দরকার।
কোভিড শুরু হওয়ার পর ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার এই করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে। এরপর তা আর বাড়ানো হয়নি। হাইয়েস্ট স্ল্যাবের বেশি আয়ের লোকজন কর দেয়। ফলে এতে সরাসরি তারা সুবিধা পেয়েছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে বিবিএস প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালের জরিপের ফল অনুযায়ী, আগের ১০ বছরের তুলনায় আয় ও ভোগব্যয় উভয় ক্ষেত্রেই বৈষম্য বেড়েছে।
বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির তিন কোটি টাকা পর্যন্ত নিট সম্পদের করের বাইরে সারচার্জ দিতে হয় না। তিন কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ থাকলে, কিংবা নিজ নামে একাধিক গাড়ি থাকলে বা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮ হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের হাউস প্রোপার্টি থাকলে তাকে ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। এই সারচার্জ হলো তার দেওয়া করের ওপর ১০ শতাংশ। সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা হলে ২০ শতাংশ সারচার্জ, ২০ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার ওপরে সম্পদের জন্য ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই দেশে ওয়েল্থ ট্যাক্স ছিল। এনবিআরের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’১৯৯৬ সালের দিকে এসে তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার ওয়েল্থ ট্যাক্সের বিকল্প হিসেবে সারচার্জ আরোপ করে। শুরুতে ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপরে সারচার্জ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে তাতে ছাড় দিয়ে ৩ কোটি টাকা করা হয়।’