প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ০৯:১৯ এএম
ফাইল ফটো
কয়লার অভাবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। একই পথে হাঁটছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। মজুদ কয়লায় বেশি হলে ১৫ দিন চলবে।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার না দেওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল লোডশেডিংয়ে পড়বে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২৯৮ মিলিয়ন ডলার বা ৩২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। বকেয়া পরিশোধ না করায় চীনের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে প্রতি মাসে তিন লাখ টন কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এর পুরোটাই সিএমসি আমদানি করে দেয়।
কেন সিএমসি-কে দিয়ে কয়লা আমদানি করা হয় জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্দোনেশিয়া আগে থেকেই বাংলাদেশের ঋণপত্র গ্রহণ করতে অসম্মতি জানায়। কয়লা সরবরাহকারীদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের ঋণপত্র নগদায়ন হয় না। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেক অংশীদার চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সিএমসি চীন থেকে কয়লার এলসি করে দিতে সম্মত হয়।
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ছয় মাসের ডেফার্ট পেমেন্ট (বিলম্বিত পরিশোধ) সুবিধা পেয়ে থাকে। এই ছয় মাস সিএমসি কয়লার মূল্য পরিশোধ করে দেয়। অর্থাৎ কেন্দ্রটি যে কয়লা জানুয়ারিতে কিনছে সেই কয়লার মূল্য জুনে গিয়ে পরিশোধ করতে পারে।
সূত্র বলছে, ২৯৮ মিলিয়ন ডলার বকেয়ার মধ্যে এপ্রিলে ৫০ মিলিয়ন পরিশোধ (এলসি মীমাংসা) করা হলে সিএমসি মে মাসের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা সরবরাহ করতে পারত। কিন্তু ডলারের জোগান চেয়ে বারবার চিঠি দিলেও কাজ হয়নি।
এর আগে পায়রা ও রামপাল কয়লা আমদানিতে ডলার সংকটে পড়লে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর মধ্যস্থতায় সে যাত্রায় সংকট কাটিয়ে ওঠে বিদ্যুৎ খাত। সম্প্রতি ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিল পরিশোধ করতে পারেনি। এর পরও কয়লা সরবরাহ করে আসছিল সিএমসি। কিন্তু চীনের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কয়লার মূল্য পরিশোধ না করায় সিএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সিএমসি চাইলেও এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কয়লা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারবে না।
পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলছেন, গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বকেয়া পড়েছে ২৯৮ মিলিয়ন ডলার। এতে করে চীনের মুদ্রা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে মে মাসে কয়লা আমদানির কোনো ঋণপত্র খুলতে পারবে না সিএমসি।
পিডিবি সূত্র বলছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিজস্ব ব্যবহার বাদ দিয়ে গ্রিডে ১২৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। সম্প্রতি তীব্র গরমের মধ্যে কেন্দ্রটি ১২৪৪ মেগাওয়াট করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। কিন্তু কয়লার অভাবে এই পরিমাণ লোডশেডিং করতে হলে তীব্র হবে বিদ্যুৎ সংকট।
রামপাল আর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রও এখন বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক তীব্র গরমের মধ্যে এবার বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাও দিনের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে। তখন সরকারি হিসাবে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়েছে।