প্রতিবেদক, ঢাকা ও ভোলা
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২২:১৪ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:১১ পিএম
ভোলা সদরের ইলিশা-১ কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। রাশিয়ার গ্যাস উত্তোলন প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম এই কূপ খননে বাপেক্সকে সহায়তা করছে।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) পরীক্ষামূলকভাবে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বাপেক্স বলছে, ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) মজুদ থাকতে পারে। এর মধ্যে এক দশমিক সাত টিসিএফ মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখান থেকে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা যাবে।
গত ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মালেরহাট সংলগ্ন এলাকায় কূপ খনন শুরু করে রাশিয়ান কোম্পানি। ভূ-পৃষ্ঠের ৩ হাজার ৪৭৫ মিটার গভীরতায় ৩টি স্তরে ডিএসটির (ড্রিল স্টেম স্টেট) মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয় গত ২৪ এপ্রিল। গতকাল সকালে কূপের পাইপের মুখে আগুন দেয় বাপেক্স।
বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কূপটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব।
বাপেক্স বলছে, এর আগে ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রের আটটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। তবে গ্রীড লাইন না থাকাতে ভোলার গ্যাসের বেশিরভাগ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ভোলাতে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অল্প কিছু শিল্প কলকারখানা এই গ্যাস ব্যবহার করছে। সরকার ভোলার গ্যাস সিএনজি করে আনার জন্য দেশের একটি সিএনজি কোম্পনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এভাবে এসব সঙ্গে খুব বেশি গ্যাস আনা সম্ভব নয় বলে পেট্রোবাংলার তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ভোলায় যে পরিমাণ গ্যাস রয়েছে তা এলএনজিও করে আনার জন্যও যথেষ্ট নয়। ভোলা পর্যন্ত গ্রীড লাইন নির্মাণে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে একটি প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপে জানা গেছে। ফলে এই উদ্যোগকেও বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখছে না জ্বালানি বিভাগ। ফলে গ্যাস পাওয়া গেলেও তার ব্যবহারে জটিলতা থেকেই যাচ্ছে।
ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের আগে ১৯৯৩-৯৪ সালে বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কার হয়। বাপেক্স ভোলা এবং ভোলার আশেপাশের জেলাগুলোতে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে একই ভূগঠনের শরীয়তপুরে চলছে কূপ খনন। ভোলা-শরিয়তপুর-মাদারীপুর এবং বরিশালকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর ভোলার টবগি-১ কূপে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয় জ্বালানি বিভাগ। মাত্র ৬ মাসের মাথায় সেখানে আরো একটি কূপে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা এল।