প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৫১ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মরদেহ নেওয়া হয়েছে শহীদ মিনারে। প্রবা ফটো
প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ঐক্য ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসেন তার পরিবার ও দল ঐক্য ন্যাপের শীর্ষ নেতারা।
ঐক্য ন্যাপের আয়োজনে এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। পরে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পোস্তগলার মহাশ্মশানে। সেখানে তার শেষকৃত্য হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসার পর ঢাকা জেলা প্রশাসন তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) প্রদান করে। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েতুল ইসলাম। এ সময় ডিএমপির চৌকস দল বিউগলে করুণ সুর তোলে। অশ্রুসজল হয়ে ওঠে মৃতের স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা অনেকের চোখ।
প্রথমে ঐক্য ন্যাপ ও পরে জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয় পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মরদেহ। তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সিপিবির নেতারা।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে এসেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। এ ছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, নাট্যব্যক্তিত্ব ও বিশ্ব আইটিআইয়ের সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।
রবিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ অ্যান্ড হোপে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
২২ এপ্রিল সকালে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ বা হার্টের কার্যকারিতার সমস্যা হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। তিনি সেপটিক শক, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রীয় রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগে ভুগছিলেন। আগে ক্যানসারের কারণে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের প্রস্টেট ও কোলনের অপারেশন হয়েছে। পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার কিডনির কার্যকারিতা কমতে থাকে এবং প্রস্রাব উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
রবিবার রাত থেকে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মরদেহ রাখা হয়েছিল শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে।