প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:০০ পিএম
আড়াই বছরে যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা ছিল, ৬ বছর শেষে তার অগ্রগতি মাত্র ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ে অর্থ ব্যয় হয়েছে ২৯ শতাংশ। তবে ব্যয় না বাড়লেও এ পর্যন্ত তিনবারে সাড়ে ৩ বছর সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ বাকি থাকায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এ মেয়াদেই পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিয়া বলেন, মূল কাজ শেষ। এখন মালামাল এলেই আমরা লাইন বসানোর কাজ শুরু করতে পারব।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আখাউড়া হয়ে ভারতের কলকাতা ও আগরতলার মধ্যে নতুন রেল সংযোগ স্থাপন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, মূল অনুমোদিত প্রকল্পটিতে বাস্তবায়নের সময় ছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর। এরপর প্রথমবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ ২ বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয়বার আবারও ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এতেও কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ১ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এবার চতুর্থবার আরও ১ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া শর্তগুলো হলো--নির্মাণকাজের ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা যাবে না। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজ নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদে ঠিকাদার নির্মাণকাজ সম্পাদনে ব্যর্থ হলে চুক্তির সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ এবং পিপিআর অনুযায়ী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের সংস্থান অনুযায়ী কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং সকল টেস্ট রিপোর্টের কপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ-আইএমইডিতে পাঠাতে হবে। বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পের সকল অংশের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বর্ধিত মেয়াদের সংশোধিত কর্ম ও ক্রয় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি তিন মাস অন্তর পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডিতে পাঠাতে হবে। প্রকল্পের মেয়াদ আর কোনো অবস্থাতেই বৃদ্ধি করা হবে না।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি-পিইসির সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে এক বছর বর্ধিত সময় ২০২৩ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবারে আরও এক বছর বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর জন্য ২০২০ সালের মার্চ হতে বাংলাদেশ ও ভারতের লকডাউন জারি করায় প্রকল্পের সাইটের কাজ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জুলাই হতে স্বল্প পরিসরে কাজ চালু হলেও গত বছরের এপ্রিলে পুনরায় লকডাউন চালু হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কাজ বন্ধ ছিল। প্রকল্পটি ভারতীয় অনুদানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ অনুদানের শর্ত অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ভারতীয় ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে ভারতীয় লোকবল কর্মরত রয়েছে। বিভিন্ন সময় জারি করা লকডাউন ও জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটে।
অনুদানের শর্তানুসারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণসামগ্রী, মালামাল, ইকুইপমেন্ট প্ল্যান্টস ভারত থেকে আনতে হয়। কোভিড-১৯-এর কারণে স্লিপার এবং অন্য মালামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়োজিত ঠিকাদারের ভারত থেকে নির্মাণসামগ্রী আমদানি করতে দেরি হয়। এ ছাড়া ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকবল ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতেও অসুবিধা হওয়ায় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমে বাংলাদেশ অংশে ১০ দশমিক ১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন এবং ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৫৬ দশমিক ৫১ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩টি মেজর ব্রিজ ও ২০টি মাইনর ব্রিজ এবং ৩টি স্টেশন কম্পিউটারাইজড ইলেকট্রনিক সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সত্যজিৎ কর্মকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সিই (পূর্ব) আবু জাফর মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মূলত কোভিডের কারণেই আমাদের প্রকল্পের কাজ দফায় দফায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। আমাদের মূল কাজ প্রায় শেষ।কোভিডের কারণে আমরা মালামাল আনতে পারিনি। এ প্রকল্পের অর্থায়নকারী হলো ভারত। তারাই আমাদের মালামাল সরবরাহ করবে। কিন্তু কোভিডের কারণে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ ছিল। ফলে তারা সরবরাহ করতে পারেনি। এখন দুদেশেরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’
প্রবা/আরএম/এমআই