প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও বর্তমানে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স কমিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়া গাড়ী ক্রয় ও চুক্তি এবং কাজ না করেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে তা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মাহবু্বুল আলম।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মো. তৌহিদুজ্জামান অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ, সরকারের অনুমোদন ব্যতীত গাড়ী ক্রয়, ব্যবহার, কনসালটেন্ট নিয়োগ, চুক্তি স্বাক্ষর ও কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
আরও বলা হয়, ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে ২ মার্চে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৫ নং ক্রমিকের যোগ্যতা অনুসারে দরখাস্ত না করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র সৃজন করে নিয়োগ পেতে যথাসময়ে আবেদন না করে করপোরেশনের অসৎ কর্মচারীদের যোগসাজশে পরবর্তীতে দরখাস্ত জমা দেন।
এজাহারে তার বয়স জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য যে সকল শর্ত বা যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল সেই সকল যোগ্যতার কোনটাই তার (তৌহিদুজ্জামানের) ছিল না। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদপত্র জমা দেননি। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সৃজনপূর্বক দরখাস্ত জমা দেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে প্রার্থীদের বয়স সীমা সর্বোচ্চ ৪২ উল্লেখ করা হলেও তখন তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। তিনি প্রকৃত সত্য গোপন রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল কাগজপত্র সৃজন করে জাল কাগজপত্রকে জেনেশুনে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৪২ বছর বয়স দেখিয়ে চাকুরিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
ইস্পাত প্রকৌশলে চাকরিরত চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পদায়ন হওয়ার বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, আসামী মো. তৌহিদুজ্জামান বিএসইসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর হতেই প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে পদায়ন হন। তিনি প্রগতি টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পিপিআর, ২০০৮-এর বিধান লঙ্ঘন করে গাড়ী ক্রয়, ব্যবহার, কনসালটেন্ট নিয়োগ, চুক্তি স্বাক্ষর ও কাজ না করা সত্ত্বেও বিল প্রদান ইত্যাদি বাবদ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।