× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশিষ্টজনরা

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিদায় আমাদের মধ্যে শূন্যতা তৈরি করবে

প্রবা প্রতিবেদক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রবা ফটো

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রবা ফটো

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিদায় এই দেশের মানুষের মধ্যে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি করবে। জাতির যে সেবা তিনি করে গেছেন সেই ঋণ কোনো দিন পরিশোধ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী খ্যাতিমান মানুষ ছিলেন। তার অনেক প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি নিজেও অনেক সম্মানিত বোধ করতেন। তিনি অত্যন্ত বিনম্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন।'

তিনি বলেন, 'অনেক কারণেই এই মানুষটি মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন। একটি হলেন তিনি বীর মুক্তিযুদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন। খুব সরল প্রকৃতির খুব সাদামাটা জীবন তিনি যাপন করতেন। এটা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন সেটি অতুলনীয়। নানা মাত্রায় নানা বিবেচনায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী মানুষের মনে অমর হয়ে থাকবেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তিনি সেই সম্মান পেয়েছেন। তার শূন্যতা আছে। তিনি যে মহানুভবতা এবং মানবিক কাজ করেছেন সেটি অনুকরণীয়।'

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহর প্রতি আমাদের ঋণ অপরিসীম। তার ঋণ কোনো দিন পরিশোধ হবে না। তার প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত। বাংলাদেশে আরেকটা জাফরুল্লাহ তৈরি হবে না। আমরা যারা গরীব মেহনতি মানুষের পক্ষে রাজনীতি করি, এর বাইরেও সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে।’ 

ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘গণস্বাস্থ্যের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। জাফরুল্লাহ ভাই তার মতো করে গরীব ও সাধারণ মানুষের জন্য ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন এবং ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরী করেছেন। দেশের প্রতি তার অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা তরুণদের জন্য অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার জীবন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে শিখতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘তরুণদের কাছে আমার আবেদন থাকবে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবন থেকে আমাদের জীবনবোধ সম্পর্কে শেখার আছে। জীবন বলতে কি বোঝায় তা তিনি শিখিয়েছেন। বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সমস্যার সমাধান করা, নদীগুলো উদ্ধার করা, বিষ ব্যবহার বন্ধ করা, বাংলাদেশের জন্য যা কিছু ক্ষতিকর সেগুলো বন্ধ করাই ছিলো তার আদর্শ।  সেটাই ছিলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের আরেকটি অংশ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন  ফরহাদ মজহার।

গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জাফরুল্লাহর অনুপস্থিতি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। কিন্তু তার কাজ ও বহুমাত্রিক কীর্তি, দেশ ও মানুষের প্রতি উজার করা ভালোবাসা বর্তমান আমাদের প্রজন্ম ও অনাগত প্রজন্মকে বহুকাল ধরে অনুপ্রাণিত করবে। তার কীর্তি নানাভাবে এই দেশের মানুষের নানা অর্জনের মাধ্যমে প্রকাশিত। মানুষের স্বার্থে একটা পরিবর্তন কীভাবে আনা যায় সেটা নিয়ে ভাবতেন। তিনি সর্বদা মানুষের কল্যাণ,  রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিয়ে ভাবতেন। এসব পরিবর্তনের বিষয়ে যারাই ভাববেন নিশ্চিতভাবে সেখানেই ডা. জাফরুল্লাহ প্রাসঙ্গিক থাকবেন। আমরা যত দ্রুত তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারবো তত দ্রুত আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জাফরউল্লাহ ভাই আমার ছাত্রজীবনের সহযোদ্ধা থেকে মুক্তিযুদ্ধের  সহযোদ্ধা ছিলেন। এই দীর্ঘ সময় মানুষের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই সেই লড়াইয়ে তিনি পাশে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার অর্থেই জনযোদ্ধা ছিলেন তিনি। তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধ শেষ করেননি। এরপরও তিনি মুক্তিযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে গেছেন। শুধু দেশের মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তার লড়াই ছিল অবিচল। আমাদের দেশের ওষুধ নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার প্রচেষ্টাতেই আমরা এটিতে লাভবান হচ্ছি। তিনি রাজনীতি করেননি ঠিকই, কিন্তু রাজনীতিতে বিবেকের কন্ঠস্বর হিসেবে তিনি থেকেছেন।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এই বিদায় আমাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এক বিরাট ক্ষতির কারণ। তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও ডাক্তার ছিলেন না, তিনি আমাদের ইতিবাচক পরিবর্তনে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। বাঙালি জাতিকে পৃথিবীতে বাঙালি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা জ্ঞান-বিজ্ঞানে জাতিকে ভূষিত করা এবং পৃথিবীর সকল মহান কাজে তিনি অগ্র সৈনিক ছিলেন। তার প্রতি আমি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা জানাই। ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি ওনাকে চিনি। তার পরিবারে আমি গিয়েছি। তার পিতামাতার সাথে আমি খেয়েছি। ভাই বোনের সাথে কথা বলেছি। এ এক অসাধারণ পরিবার। অসাধারণ এর মধ্যে অসাধারণ জাফরুল্লাহ চৌধুরী।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘তিনি আমাদের চেয়ে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু তারপরও যে কোন সরকারের আমলে তিনি যেকোনো অন্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। উনার অবস্থান দেখে, আমাদের ইতোস্তত লাগতো, লজ্জা লাগতো  এই ভেবে যে উনি অসুস্থ অবস্থায় এত প্রতিকূল অবস্থায় এরকম প্রতিবাদী থাকতে পারে, তাহলে আমরা কেন সত্য ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে পারব না। জাফরুল্লাহ চৌধুরী সকল দল মত নির্বিশেষে সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। এটা দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। কিন্তু উনি যখন জীবিত ছিলেন উনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকে অনেক কথা বলছে। কিন্তু আজকে উনি মারা যাওয়ার পরে সবাই শোক জানাচ্ছে। ভালোবাসা জানাচ্ছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যারা নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে মানুষের জন্যে কথা বলে, কাজ করে  তারা সকলের ভালোবাসা পায়। এই ভালবাসাটা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

নুরুল হক নূর বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবনী অতুলনীয় এবং অনুকরণীয়। এরকম একজন মহান ব্যক্তি জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই। তাঁর জীবন মানুষকে অনুপ্রেরণা দিবে। এরকম একজন মানুষ কিভাবে আজীবন এবং সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন। তার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে আমি মনে করি তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা